০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬

২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে বড় সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ফুটবল দল   © টিডিসি ফটো

বিশ্বকাপের শতবর্ষের আসরে খেলার টিকিট নিয়ে কোনো বাছাইপর্বের অপেক্ষা করতে হবে না আর্জেন্টিনাকে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশের মর্যাদা পাওয়ায় সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই সুবিধা পাচ্ছে স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েও।

ফুটবল বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০৩০ সালের আসর হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন। প্রথমবারের মতো তিনটি মহাদেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। মূল আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। অন্যদিকে শতবর্ষ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী পর্বের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক উরুগুয়ে এবং প্রতিবেশী আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে।

এই বিশেষ ব্যবস্থার ফলে ছয়টি দেশই স্বাগতিক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী স্বাগতিক দেশগুলো সরাসরি বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। ফলে আর্জেন্টিনাকেও বাছাইপর্ব খেলতে হবে না।

২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। যদিও এই আয়োজনের বিডিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের অক্টোবরে। পরে মরক্কো একক প্রস্তাব থেকে সরে এসে স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে বিড জমা দেয়। শেষ পর্যন্ত সেটিই একমাত্র বৈধ প্রস্তাব হিসেবে অনুমোদন পায়।

বিশ্বকাপের শতবর্ষকে স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে ফিফা। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিও, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনেস এইরেস এবং প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনে। এরপর অংশগ্রহণকারী দলগুলো ইউরোপ ও আফ্রিকায় গিয়ে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো খেলবে।

এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হবে মন্টেভিডিওর ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়াম। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই মাঠেই। এছাড়া বুয়েনেস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল এবং আসুনসিওনের এস্তাদিও ওসভালদো ডোমিঙ্গেজ দিব স্টেডিয়ামেও উদ্বোধনী পর্বের ম্যাচ আয়োজন করা হবে।

ফিফার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ শুরু হবে ৮ জুন এবং শেষ হবে ২১ জুলাই। মোট ৪৪ দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ আসর। তিনটি মহাদেশে ম্যাচ আয়োজন, উদ্বোধনী পর্বের শতবর্ষ উদ্‌যাপন এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর দীর্ঘ ভ্রমণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এবার সূচি আগের সব বিশ্বকাপের তুলনায় দীর্ঘ রাখা হয়েছে।