যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোর আনন্দের মধ্যেই বড় দুঃসংবাদ পেল বেলজিয়াম
যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়াম। তবে বড় এই জয়ের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। স্পেনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের অন্যতম ভরসা মিডফিল্ডার আমাদু ওনানার চোটে পড়া এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেলজিয়ান শিবিরে।
শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে রুডি গার্সিয়ার দল। ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাকে খেলতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিতর্ক চললেও মাঠে তার কোনো প্রভাব পড়তে দেয়নি বেলজিয়াম। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জয় তুলে নিয়ে তারা এখন স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়।
এই ম্যাচে কয়েকজন ফুটবলারের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কোচ রুডি গার্সিয়া। অনেকেই নিজেদের সেরাটা উপহার দিয়েছেন। তবে কেভিন ডি ব্রুইনের মতো কয়েকজন খেলোয়াড় খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। বিশেষ করে স্পেনের মতো বল দখলে আধিপত্য বিস্তারকারী দলের বিপক্ষে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে বেলজিয়ামকে।
তবে সেই ম্যাচের আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে দলটি। দীর্ঘদিন পর শুরুর একাদশে ফেরা আমাদু ওনানা মাত্র ২০ মিনিট খেলেই চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
একটি প্রেসিংয়ের সময় ভারসাম্য হারিয়ে অস্বাভাবিকভাবে মাটিতে পড়ে হাঁটুতে আঘাত পান অ্যাস্টন ভিলার এই মিডফিল্ডার। চিকিৎসা নেওয়ার পর আবার খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যথা এতটাই তীব্র ছিল যে শেষ পর্যন্ত আর মাঠে থাকতে পারেননি।
মাঠ ছাড়ার সময় ওনানার হতাশা ছিল চোখে পড়ার মতো। বেঞ্চে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর খুঁড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ড্রেসিংরুমে চলে যান তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে তিনি আবার মাঠের পাশে এলেও তখন তার হাঁটুতে সাপোর্ট লাগানো ছিল এবং চলাফেরা করছিলেন ক্রাচের সাহায্যে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের পরই তার চোটের প্রকৃতি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তার খেলার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে।
ওনানার অনুপস্থিতি বেলজিয়ামের জন্য বড় ক্ষতি হতে পারে। শারীরিক শক্তি, বিস্তৃত পরিসরে খেলার সক্ষমতা এবং রক্ষণভাগে কার্যকর উপস্থিতির কারণে স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারতেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে করা নিজের গোলটি সতীর্থ আমাদু ওনানাকে উৎসর্গ করেন রোমেলু লুকাকু। সেটিই প্রমাণ করে, চোট পাওয়া এই মিডফিল্ডারের পরিস্থিতি পুরো বেলজিয়ান দলকেই কতটা নাড়া দিয়েছে। এখন সবার অপেক্ষা মেডিকেল রিপোর্টের দিকে। কারণ স্পেনের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের আগে ওনানার সুস্থতা বেলজিয়ামের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।