০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০

একাদশে একাধিক পরিবর্তন ও কৌশল বদলে ফেলার ইঙ্গিত দিলেন স্কালোনি

স্বালোনি   © টিডিসি ফটো

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে শুধু একাদশেই নয়, খেলার কৌশলেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্স থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুলগুলো শুধরে মাঠে নামতে চান তিনি। একই সঙ্গে নিশ্চিত করেছেন, অন্তত তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মিসরের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের আগের দিন আটলান্টা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, এবারের বিশ্বকাপে কোনো দলই সহজে জয় পাচ্ছে না। তার মতে, টুর্নামেন্টের কঠিন সূচি, দীর্ঘ ভ্রমণ, গরম আবহাওয়া এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ফেভারিট দলগুলোকেও চাপে ফেলছে।

স্পেন শেষ মুহূর্তে পর্তুগালকে হারানোর পর ফেভারিটদের কঠিন লড়াই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্কালোনি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপটি সবার জন্যই কঠিন হচ্ছে। ফ্রান্সকে একটি ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছিল, তারা এখনো তা-ই; কিন্তু প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জিততে তাদের বেশ ভুগতে হয়েছে। আমরা স্পেন ও পর্তুগালের ম্যাচও দেখলাম; স্পেন ভালো খেলে জিতেছে, কিন্তু শেষ মিনিট পর্যন্ত তাদেরও লড়াই করতে হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে দলগুলো যেভাবে খেলছিল, সেই ছন্দ এখানে এসে কোনো দলই ধরে রাখতে পারেনি; কারণ প্রতিপক্ষ দলগুলোও খেলতে এসেছে। কাজটা খুব কঠিন। এবারের বিশ্বকাপের পরিস্থিতি আগের বিশ্বকাপগুলোর চেয়ে আলাদা। আমার মনে হয়, এ বছর যে খেলোয়াড়রা অনেক বেশি ম্যাচ খেলে এখানে এসেছেন, তাঁরা ক্লান্তিবোধ করছেন। আর এই কারণেই আমরা সাধারণত যে উচ্চমানের খেলা দেখতে অভ্যস্ত, এটি ঠিক তেমন হচ্ছে না।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘স্পেন পাঁচ ম্যাচে ধীরে ধীরে নিজেদের উন্নত করেছে। তবে এই ম্যাচগুলোতে কোনো দলই টানা ভালো খেলতে পারেনি। এটিই প্রমাণ করে যে ভ্রমণ ক্লান্তি, গরম আর সব স্টেডিয়ামের মাঠের ঘাস এক না হওয়ার কারণে বিশ্বকাপটা কতটা জটিল। এই সবকিছুর কারণেই ফেভারিটদের আধিপত্য অতটা দেখা যাচ্ছে না। কোনো দলই এখনো বিশাল কোনো ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি।’

কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে স্কালোনি বলেন, ‘এই আর্জেন্টিনা দল বছরের পর বছর ধরে প্রতিটি টুর্নামেন্টে ফেভারিট হিসেবে খেলছে এবং সব সময়ই ভালো খেলেছে। যখন প্রতিপক্ষ আপনাকে বিপদে ফেলে বা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হয় না, তখন জেতার একমাত্র কোনো নির্দিষ্ট উপায় থাকে না। যদি ভালো খেলে, পাসিং ঠিক রেখে কাজ না হয়, তবে জেতার আরও উপায় আছে: জেদ, তীব্রতা, সাহস আর আমাদের ভেতরে থাকা লড়াকু মানসিকতা দিয়ে লড়তে হবে। যখন আপনি ভালো খেলতে পারবেন না, তখন এই মানসিকতাটারই প্রয়োজন হবে। আমি নিশ্চিত, দল যদি গত ম্যাচে সেই চারিত্রিক দৃঢ়তা না দেখাত, তবে আমরা বাদ পড়ে যেতাম। আর্জেন্টিনা সব সময়ই ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়েছে। গোল খাওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট কিছু ভুল আমাদের মনোবল ভাঙতে পারেনি, আমরা আক্রমণ চালিয়ে গেছি। এটি একটি ভালো লক্ষণ ছিল। মাঝেমধ্যে কৌশল বা পরিকল্পনা একপাশে সরিয়ে রাখতে হয়। যখন স্বাভাবিকভাবে পারেন না, তখন অন্য উপায়ে প্রতিপক্ষের দেয়াল ভাঙতে হয়।’

মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার একাদশে তিনটি পরিবর্তন আসছে বলেও জানান স্কালোনি। বাঁ প্রান্তের রক্ষণে ফাকুন্দো মেদিনার জায়গায় ফিরছেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেজের পরিবর্তে সুযোগ পাচ্ছেন হুলিয়ান আলভারেজ। আর মাঝমাঠে থিয়াগো আলমাদার জায়গায় খেলবেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

পারেদেসকে দলে ফেরানোর কারণ ব্যাখ্যা করে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘কাতার বিশ্বকাপের পর লিয়ান্দ্রো যখনই শতভাগ ফিট থেকেছে, প্রায় সব ম্যাচেই সে খেলেছে। বোকাসের হয়ে কোপা লিবার্তাদোরেসের ম্যাচের পর সে চোট পেয়েছিল এবং সুস্থ হতে দারুণ চেষ্টা করেছে। আমরা ভেবেছিলাম অ্যালেক্সিসই তার আদর্শ বিকল্প; কারণ এনজো তার ক্লাবে কিছুটা ওপরের দিকে খেলছে এবং ডি-বক্সে ঢুকে আক্রমণ করছে। তাই লিয়ান্দ্রো যখন ছিল না, আমরা অ্যালেক্সিসকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিই।’

শুধু খেলোয়াড় বদল নয়, দলের খেলার ধরনেও পরিবর্তন আনতে চান স্কালোনি। বিশেষ করে কেপ ভার্দের বিপক্ষে যে ভুলগুলো হয়েছে, সেগুলো আর দেখতে চান না তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল পরিকল্পনা হলো—ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখা ছাড়াও খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রতিপক্ষ কাউন্টার-অ্যাটাকে (ট্রানজিশন) সুযোগ না পায়। গত ম্যাচে তারা কাউন্টার-অ্যাটাকে আমাদের ক্ষতি করেছিল। আমাদের চেষ্টা করতে হবে বল পায়ে রেখে রক্ষণ সামলানোর, এই জায়গায় আরও নিখুঁত হওয়ার এবং তাড়াহুড়ো করে আক্রমণ না করার। গত কয়েকটা ম্যাচে আমরা দেখেছি যে, বল কেড়ে নেওয়ার পরপরই আমরা খুব দ্রুত আক্রমণে গেছি, নিজেদের মধ্যে পাঁচ-ছয়টি পাসও দিইনি।’

শেষে মিসরকে নিয়েও সতর্ক থাকার বার্তা দেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘মিশর খুব ভালো একটি দল। মানসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকার পাশাপাশি তাদের একজন কোচ আছেন যিনি দীর্ঘদিন ধরে এই দলের সাথে কাজ করছেন। খেলার ব্যাপারে তাদের একটি স্পষ্ট ধারণা আছে এবং তারা ভালো ফুটবল খেলে। এটি সত্যি যে তারা চার ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি জিতেছে, কিন্তু তারা প্রতিটি প্রতিপক্ষকেই কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে। তারা খুব নিচে নেমে ডিফেন্স করে না, এই দলটি (কেপ ভার্দের তুলনায়) অন্যভাবে তৈরি। তাদের আক্রমণের ধরন বেশ আলাদা। আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। আমরা খেলোয়াড়দের প্রতিপক্ষের খেলার ধরন বুঝিয়ে দিই, কিন্তু অনেক সময় আমাদের বিপক্ষে দলগুলো তাদের কৌশল বদলে ফেলে। নীতিগতভাবে, তারা নিচে নেমে রক্ষণভাগ সামলানোর মতো দল নয়, তাদের আক্রমণে ওঠার মতো খেলোয়াড় আছে।’