স্পেন–পর্তুগাল মহারণে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে মিডফিল্ডের লড়াই
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেন ও পর্তুগালের লড়াইয়ে তারকা ফরোয়ার্ডদের দিকে যতটা নজর থাকবে, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে মিডফিল্ডের দ্বৈরথ। দুই দলই বলের দখল ধরে রেখে খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে পছন্দ করে। তাই মাঝমাঠে যে দল আধিপত্য বিস্তার করবে, কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনাও তাদেরই বেশি।
স্পেনের হয়ে এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচেই মাঝমাঠের দায়িত্ব সামলেছেন রদ্রি ও পেদ্রি। পুরো দলের ছন্দ নির্ধারণে এই দুই মিডফিল্ডারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের সামনে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে দানি ওলমো নিয়মিত সুযোগ পেয়ে নিজের জায়গা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন। অন্যদিকে ডান প্রান্তে আলেক্স বায়েনা ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে গাভি ও ফেরান তোরেসকে পেছনে ফেলেছেন। চোটের কারণে নিকো উইলিয়ামস না থাকায় বাম দিকে লামিনে ইয়ামাল এবং মাঝখানে মিকেল ওইয়ারসাবালকে নিয়েই আক্রমণের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
অন্যদিকে পর্তুগালের মাঝমাঠও ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী। জোয়াও নেভেস ও ভিতিনিয়া টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্লাব পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে খেলছেন। তাদের সঙ্গে আছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ক্লাব মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রুবেন নেভেস সুযোগ পেলেও স্পেনের বিপক্ষে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ আবারও তার পরীক্ষিত ত্রয়ীকেই ভরসা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যানও বলছে, দুই দলের খেলার ধরনেও রয়েছে দারুণ মিল। স্পেন টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের সবকটিতেই বলের দখলে আধিপত্য দেখিয়েছে। পর্তুগালও চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে একই কাজ করেছে। শুধু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে তারা বলের দখলে পিছিয়ে ছিল।
স্পেনকে ভালোভাবেই চেনেন বলে জানিয়েছেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর পর তিনি বলেন, “আমরা স্পেনকে খুব ভালো করেই চিনি, তারাও আমাদের চেনে। দুই দলই বলের দখল রাখতে, আক্রমণ করতে এবং দ্রুত বল পুনরুদ্ধার করতে পছন্দ করে। আমার বিশ্বাস, এটি দারুণ একটি ম্যাচ হবে।”
দুই দলের আক্রমণভাগে যেমন বিশ্বমানের তারকার ছড়াছড়ি, তেমনি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। যে দল এই লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে, শেষ পর্যন্ত তারাই লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাওয়ার পথে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নেবে।