০৬ জুলাই ২০২৬, ১৫:০৯

মেসিদের সামনে এবার ফারাওদের প্রাচীর: কতটা প্রস্তুত সালাহর মিসর?

মেসি ও মিসর দল   © টিডিসি ফটো

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহোৎসবে এক চরম রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্বফুটবল। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক ও ‘ডার্ক হর্স’ মিসর। 

নকআউট পর্বের প্রথম ধাপে অর্থাৎ শেষ বত্রিশের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানের এক ঘামঝরানো ও নাটকীয় জয়ের পর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা যখন কোয়ার্টার ফাইনালের লক্ষ্যে নতুন ছক কষছে, ঠিক তখনই তাদের সামনে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তর আফ্রিকার এই পরাশক্তি। টাইব্রেকারে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট কেটে রূপকথার জন্ম দিয়েছে ফারাওরা। আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বসেরা মহাতারকাদের রুখে দিতে কতটা প্রস্তুত আফ্রিকান এই সিংহরা, তাদের শক্তি, দুর্বলতা, ইতিহাস ও রণকৌশল উলটো পিরামিড কাঠামোয় নিচে বিস্তারিত ও সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়ে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতায় থাকার পর, টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে তাদের বিদায় করে ইতিহাস গড়ে ফারাওরা। নকআউট পর্বের এই ম্যাচে হোসেন আবদেলমাজিদের নেওয়া জয়সূচক পেনাল্টি কিকটি যখন জালে জড়াল, তখন মিসরের ডাগআউটের দৃশ্যটি ছিল দেখার মতো। এক অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হলো মিশরীয় ফুটবল। 

অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ মাঠের মধ্যেই কেঁদে ফেললেন। কোচ হোসাম হাসান ও তার যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসান মিসরের জাতীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে মাঠজুড়ে দৌড়াতে লাগলেন। ডালাস স্টেডিয়ামের স্পিকারে তখন বাজছিল আহমেদ সাদের জনপ্রিয় গান ‘এহ এল ইউম এল হেলও দাহ?’ (দিনটি কতই না সুন্দর!)। গ্যালারিতে থাকা হাজারো মিশরীয় সমর্থকের সাথে মাঠ ঘুরে উৎসব করতে লাগলেন ফুটবলাররা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে এটিই মিসরের প্রথম জয়, যা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে টাইব্রেকারে সালাহর নেওয়া ‘পানেঙ্কা’ শটটি ছিল দুর্দান্ত। পেনাল্টিতে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়ার পর সালাহ সরাসরি লাইভ ফিডে বলেন, ‘যদি কাউকে এই সাহসী শটটি নিতে হতো, তবে সেটি আমিই হতাম। আমি জানি না এটি আমার শেষ বিশ্বকাপ কি না, তবে আমাকে এই ঝুঁকিটা নিতেই হতো।’

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’ থেকে নিজেদের যাত্রা শুরু করে মিসর। গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী বেলজিয়ামের সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর, নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় তারা। এরপর ইরানের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে সালাহর দল। এক জয় ও তিন ড্রয়ের এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে বিশ্বকাপের ‘পাওয়ার র‍্যাংকিং’-এ চমকপ্রদভাবে ১৪ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে মিসর। গ্রুপ পর্বে খেলার সুযোগ না পেয়ে ক্যাম্পের ভেতরে হাইসেম হাসানের অসন্তুষ্ট থাকার গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর পরিবর্তে মাঠে নেমে এই বিশ্বকাপে মিসরের হয়ে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলেন তিনি। মাঠে নেমেই তিনি দারুণ প্রভাব ফেলেন, মিসরের আক্রমণে গতি বাড়ান এবং আশুর, সালাহ ও ওমর মারমুশের সাথে চমৎকার কম্বিনেশন তৈরি করেন।

বিশ্বকাপের এই দুর্দান্ত পথচলার কল্যাণে ফিফা বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে বড়সড় এক লাফ দিয়েছে মিসর। ৫ ধাপ এগিয়ে তারা বর্তমানে বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ের ২৪তম স্থানে উঠে এসেছে, যা ২০১৭ সালের পর তাদের সর্বোচ্চ অবস্থান। আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে মিসর সবচেয়ে সফল দল। তাদের শোকেসে রয়েছে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৭টি আফ্রিকান কাপ অব নেশনস শিরোপা (১৯৫৭, ১৯৫৯, ১৯৮৬, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০০৮ এবং ২০১০)। 
তবে মহাদেশীয় ফুটবলে একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও, বিশ্বমঞ্চে নকআউট পর্বে এবারই প্রথম নিজেদের জাত চেনাচ্ছে ফারাওরা। 

মিসর এ পর্যন্ত মোট ৪ বার ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আসরগুলো হলো: ১৯৩৪, ১৯৯০, ২০১৮ এবং ২০২৬। ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৩৪ সালে প্রথম আফ্রিকান এবং প্রথম আরব দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার গৌরব অর্জন করেছিল মিসর। সেবার অবশ্য কোনো গ্রুপ পর্ব ছিল না; সরাসরি নকআউট বা রাউন্ড অব ১৬ দিয়ে খেলা শুরু হয়েছিল। মিসর তাদের প্রথম ম্যাচেই হাঙ্গেরির কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয়ায় আসরে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিল। এরপর ১৯৯০ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ডের সাথে ড্র করলেও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয়। আর ২০১৮ বিশ্বকাপে মোহাম্মদ সালাহ দলে থাকা সত্ত্বেও গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচের তিনটিতেই হেরে শূন্য হাতে বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে। সেই তুলনায় চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপটিই মিসরের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অভিযান।

মিশরীয় শিবিরের প্রধান চালিকাশক্তি এবং অবিসংবাদিত নেতা হলেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। ইরানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পেয়েছিলেন সালাহ। সেই চোট নিয়েও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পুরো ১২০ মিনিট খেলে এবং টাইব্রেকারে গোল করে সালাহ দলের মানসিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। গোল ও অ্যাসিস্টের চেয়েও এবারের বিশ্বকাপে তিনি সবচেয়ে বড় অবদান রাখছেন সুযোগ তৈরিতে। বেলজিয়ামের লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ডের সাথে যৌথভাবে এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৬টি গোল করার সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। সালাহ ছাড়াও মাঝমাঠে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন মিডফিল্ডার ইমাম আশুর, যার চমৎকার বুদ্ধিমত্তা ও ট্যাকটিক্যাল গেমপ্লে দলকে ভারসাম্য দিচ্ছে। প্রথমার্ধে ইমাম আশুরের চমৎকার হেডে এগিয়ে গিয়েছিল মিশর। 

মিশরীয় কিংবদন্তি মোহাম্মদ আবুত্রিকা স্টুডিওতে ইমাম আশুরের প্রশংসা করে বলেন, ‘আশুর এখন আবুত্রিকার চেয়েও ভালো ফুটবলার। এই টুর্নামেন্টে সে রাইট উইং, লেফট উইং, মাঝমাঠে এবং মারওয়ান আতিয়ার পাশে খেলেছে। এবং প্রতিটি পজিশনে সে যেখানেই খেলেছে, সেখানেই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছে।’ ইমাম আশুর কাতার-ভিত্তিক আবুত্রিকাকে একটি আবেগপূর্ণ বার্তা পাঠিয়ে বলেন, ‘আমার জীবনের চিরকালের স্বপ্ন আপনার সাথে দেখা করা। আমার সম্পর্কে আপনি যা বলেছেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি আপনার কাছ থেকে সবকিছু শিখি। মানুষ আমাকে বলে আমি নাকি দেখতে আবুত্রিকার মতো। আমি আবুত্রিকা যা করেছেন তার এক চতুর্থাংশ হওয়ার স্বপ্ন দেখি এবং তার জন্য সেরাটা চেষ্টা করব। আশা করি আপনার সাথে শীঘ্রই দেখা হবে।’

অ্যাস্টন ভিলার সাবেক রাইট-ব্যাক এবং মিশরের আন্তর্জাতিক তারকা আহমেদ এলমোহামাদি বিইন স্পোর্টসকে বলেন, ‘মোহাম্মদ সালাহর একটা ভাস্কর্য তৈরি করা উচিত। সে সব দিক থেকেই অনন্য। লিভারপুলের হয়ে সে কী করেছে তা আমরা সবাই জানি, তা ভুলে যান। কিন্তু মিশরের জাতীয় দলের জার্সিতে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা বিশ্বকাপে দলকে যেভাবে সে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তার জন্য সে সব প্রশংসার দাবিদার।’ ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সালাহর মুখে ছিল অবিরাম হাসি। তিনি জানান, নিজের চারপাশের মানুষ এবং দেশের কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারাই তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন। 

৩৪ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘মিশরের মানুষের জন্য সুন্দর একটি সুন্দর গল্প লিখতে পারা সম্পূর্ণ আলাদা একটি অনুভূতি। অন্য যেকোনো অর্জনের চেয়ে এটি আমার কাছে সেরা। আমি সবসময় বলি যে আমি মানুষকে আশা ও অনুপ্রেরণা জোগাতে চাই। আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে আমি দেশের বাইরে ভালো কিছু লিখতে পেরেছি। তবে মিশরীয়রা সবাই জানে আমি কতটা উচ্চাকাঙ্ক্ষী। আমি সবসময় ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলতাম এবং তাদের বলতাম এই ম্যাচটি আমরা কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে পারি না। হয়তো আমাদের আগের প্রজন্ম একাধিকবার আফ্রিকান কাপ অব নেশনস জিতেছে কিন্তু বিশ্বকাপে খেলার মতো ভাগ্যবান তারা ছিল না। তাই তোমাদের জানা উচিত এই মুহূর্তটি হয়তো আর কখনো ফিরে নাও আসতে পারে। ফুটবলার হিসেবে খেলার জন্য এটিই সবচেয়ে বড় মঞ্চ, তাই তোমাদের এটি উপভোগ করা উচিত। কোনো চাপকে এই মুহূর্তটি তোমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে দিও না, কারণ তোমরা হয়তো আর কখনো এই জায়গায় নিজেদের খুঁজে পাবে না। আর বেশির ভাগ খেলোয়াড় হয়তো আগামী বিশ্বকাপে থাকবেও না।’

সালাহ আরও বলেন, ‘আজ আমার অনুভূতি অবিশ্বাস্য। এই জার্সি গায়ে জড়াতে আমি সবসময় গর্ববোধ করি। এর চেয়ে গর্বের আমার কাছে আর কিছু নেই। ছেলেদের খুশি দেখতে এবং এই মুহূর্তটি উপভোগ করতে দেখা আমার ভীষণ ভালো লাগে, এর চেয়ে আনন্দের কিছু হতে পারে না। আজ আমার জীবনের অন্যতম সেরা একটি দিন, দলের সাথে ইতিহাস গড়া এবং চোট নিয়ে খেলে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করা, কারণ দেশের জন্য আমি এটাই করি। 

তাই এই মুহূর্তটির জন্য আমি ভীষণ গর্বিত এবং ছেলেদের জন্য গর্বিত। আমি তাদের থেকে কোনো কৃতিত্ব কেড়ে নিতে চাই না। আজ ইতিহাস তাদের হাতেই তৈরি।’ রসিকতা করে সালাহ তাঁর কোচ হোসাম হাসানের কথা বলছিলেন, ‘আল্লাহ আমাদের সবাইকে সাহায্য করুন, আমি জানি না এখন থেকে আমরা কীভাবে ‘ক্যাপ্টেন হোসাম’ এর সাথে কথা বলব!’ এই কোচ সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গিয়ে ফারাওদের এক অজানা এবং নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছেন।

কোচ হোসাম হাসানের অধীনে মিসর অত্যন্ত বাস্তববাদী ও সুশৃঙ্খল ফুটবল খেলছে। তাদের মূল শক্তি হলো একটি নিখুঁত ও জমাট ‘ডিফেন্সিভ ব্লক’ তৈরি করা। নিজেদের রক্ষণভাগ নিচু ব্লকে সুরক্ষিত রেখে তারা প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার আমন্ত্রণ জানায় এবং প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়েই বিদ্যুৎগতির পাল্টা আক্রমণ ওঠে। উইং দিয়ে সালাহ ও মারমুশের গতিকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে ফেলাটাই তাদের মূল চালিকাশক্তি। তবে দলের বড় চিন্তার কারণ ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। তিনি ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে একই বিশ্বকাপে দুটি আত্মঘাতী গোল (বেলজিয়াম ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে) করার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েছেন, যা মেসির দলের বিপক্ষে ম্যাচে বাড়তি স্নায়ুচাপ তৈরি করতে পারে। অবশ্য ম্যাচ শেষে কোচ হোসাম হাসান তাঁর রক্ষণে এগিয়ে এসে বলেছেন, ‘ওটা স্রেফ দুর্ভাগ্য ছিল। মোহাম্মদ হানি এই টুর্নামেন্টে উপস্থিত থাকা অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের একজন। 

আফ্রিকান কাপ অব নেশনস থেকে শুরু করে জাতীয় দলের প্রতিটি ম্যাচেই সে খুব উচ্চ স্তরের খেলা উপহার দিচ্ছে। ভুল হতেই পারে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে সব ম্যাচ মিলিয়ে আমি তার ওপর খুবই খুশি। সে অনেক পরিস্থিতিতে আমাদের রক্ষা করেছে। ওই আত্মঘাতী গোল নিয়ে আমি মোটেও মাথা ঘামাচ্ছি না।’ অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে মাঠে নামানো হয়েছিল মাহমুদ সাবেরকে। টাইব্রেকারে প্রথম পেনাল্টি শট নেওয়ার আগে তিনি একবারের জন্যও বল স্পর্শ করার সুযোগ পাননি। ম্যাচে তাঁর একমাত্র টাচটি ছিল পেনাল্টি থেকে গোল করা।

বিশ্বমঞ্চের শেষ ষোলোর লড়াইয়ের আগে প্রকাশিত ২০২৬ বিশ্বকাপের পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে আর্জেন্টিনা ৩ নম্বরে অবস্থান করছে (১ ধাপ নিচে)। তারা গ্রুপ জে-তে আলজেরিয়াকে ৩-০, অস্ট্রিয়াকে ২-০ এবং জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে হারায়। এরপর শেষ বত্রিশের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে (অতিরিক্ত সময়ে) কষ্টার্জিত জয় পায়। শুক্রবারের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা একপ্রকার অলৌকিকভাবে টিকে গেছে। একপর্যায়ে দ্বিতীয়ার্ধে ১-০ এবং অতিরিক্ত সময়ে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে ডিনে বোর্হেসের আত্মঘাতী গোলে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। 

প্রথমার্ধে মেসির টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ সপ্তম গোলটি করার পর ম্যাচটি সহজ মনে হলেও নকআউটের ফুটবল যে আলাদা, তা প্রমাণিত হয়েছে। কেপ ভার্দে যেভাবে ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নদের ঐতিহাসিক অঘটনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল, তার প্রশংসা করতেই হয়। তবে আর্জেন্টিনা লড়াই করে টিকে গেছে এবং এখন আটলান্টায় মিশরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এটা স্পষ্ট যে এই দলের শুধু মেসির জাদু ছাড়াও আরও অনেক কিছুর প্রয়োজন। নিজেদের ইতিহাসে সেরা ছন্দে থাকা মিসরীয় এই দলটির মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও তাঁর মিডফিল্ড ও রক্ষণে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছেন। অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ খেলে দুই দলই ক্লান্ত থাকলেও আটলান্টার ম্যাচটি যে কৌশল ও স্নায়ুর এক চরম যুদ্ধ হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।