০৬ জুলাই ২০২৬, ১৩:২৫

নেইমারের পর অবসরের ইঙ্গিত দিলেন আরও এক তারকা ফুটবলার

দানিলো  © টিডিসি ফটো

নরওয়ের কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের হতাশা যেন আরও গভীর হচ্ছে। নেইমারের পর এবার জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলো। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-১ গোলে হারের পর তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, বয়স ও বর্তমান ফুটবলের বাস্তবতা বিবেচনায় ব্রাজিলের জার্সিতে এটিই সম্ভবত তার শেষ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আগামী সপ্তাহে ৩৫ বছরে পা দিতে যাওয়া দানিলো বলেন, ‘বয়স এবং বর্তমান ফুটবলের চাহিদার কথা চিন্তা করলে এটা খুবই স্বাভাবিক। আগামী সপ্তাহে আমার বয়স ৩৫ হবে। এখন থেকে আমি গ্যালারির প্রথম সারিতে বসে ব্রাজিলের একজন সমর্থক হিসেবেই দলকে উৎসাহ দেব। আমার জীবনে যা কিছু পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম বলেই এত দূর আসতে পেরেছি। আমি চাই, সবাই নিজের জীবনে একইভাবে দৃঢ় থাকুক এবং স্বপ্নের জন্য লড়ে যাক।’

নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিল শুরু থেকেই কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি পেয়েও ব্রুনো গিমারায়েস গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে নরওয়ের হয়ে জোড়া গোল করেন আর্লিং হালান্ড। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও হার এড়াতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

হতাশাজনক এই বিদায় নিয়ে দানিলো বলেন, ‘আজ আমরা জিততেও পারতাম, কিন্তু সেটা হয়নি। এখন যা-ই বলি, সেটা অজুহাত মনে হতে পারে। সত্যিই ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তারা সুযোগগুলো ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে, তাই জিতেছে।’

এ সময় ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির কথাও উল্লেখ করেন অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার। তিনি বলেন, ‘তিনি আমাদের সবার মতোই ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন। তিনি ইতালিয়ান, কিন্তু তার হৃদয় পুরোপুরি ব্রাজিলিয়ান। আমাদের সবার মতো তিনিও খুব ভেঙে পড়েছেন।’

এর আগে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর নেইমারও জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর ডানিলোর এমন মন্তব্যে ব্রাজিল দলে আরও একটি সম্ভাব্য বিদায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই পরাজয়ের মাধ্যমে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিল ব্রাজিল। একই সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অপেক্ষা দাঁড়াবে ২৮ বছরে, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ শিরোপাখরা।