০৬ জুলাই ২০২৬, ১৩:১১

কেন গুইমারেসের হাতে পেনাল্টি শট তুলে দিয়েছিলেন, বিস্ফোরক মন্তব্য ভিনির

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র   © টিডিসি ফটো

নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিদায়ের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি মুহূর্ত—কেন দলের নিয়মিত তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পেনাল্টি না নিয়ে বল তুলে দিলেন ব্রুনো গুইমারেসের হাতে? সমালোচনা ও জল্পনার মাঝেই এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ভিনিসিয়ুস। তিনি জানিয়েছেন, এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না; ম্যাচ শুরুর আগেই কোচ কার্লো আনচেলত্তি ঠিক করে দিয়েছিলেন কে পেনাল্টি নেবেন।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ১২ মিনিটে ম্যাথিউস কুনিয়াকে বক্সের মধ্যে ফাউল করা হলে ভিএআরের পরামর্শে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। প্রথমে বল হাতে স্পটের দিকে এগিয়ে যান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এতে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, তিনিই শট নেবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি বল তুলে দেন ব্রুনো গুইমারেসের হাতে। তবে ব্রুনোর নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিয়ল্যান্ড। ফলে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ হারায় ব্রাজিল।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘কোচ আগে থেকেই ঠিক করে দেন পেনাল্টি কিক কে নেবে। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন। আমি কখনও অহংকারী ছিলাম না। প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার ইচ্ছাও আমার ছিল না। ব্রুনো আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেয় বলেই কোচ তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি কখনও দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাইনি।’

পেনাল্টি না নেওয়ায় যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে, তারও জবাব দেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘অনেকে হয়তো বলবে আমি নিতে চাইনি। কিন্তু আমি কখনো পালিয়ে যাইনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কোচ যখন আমাকে দায়িত্ব দেন, তখন আমি পেনাল্টি নিই। দলের প্রয়োজন হলে আমি সব সময় প্রস্তুত থাকি। আমাদের পরবর্তী বিশ্বকাপ এবং সামনে থাকা ম্যাচগুলোর জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

পেনাল্টি নেওয়ার আগে ব্রুনো গুইমারেসের সঙ্গে ভিনিসিয়ুসকে কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ধারণা করেন, দুজনের মধ্যে পেনাল্টি নেওয়া নিয়ে মতবিরোধ হয়েছিল। তবে সেই ব্যাখ্যাও স্পষ্ট করেছেন ভিনিসিয়ুস।

তিনি বলেন, ‘কোনো বিতর্কের অবকাশই ছিল না। পেনাল্টি নেওয়ার জন্য ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন কোচ। আমরা প্রতিদিন অনুশীলন করি এবং কোচ তাকেই নির্বাচন করেছেন। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া কিংবা সেরা খেলোয়াড় হওয়ার কোনো অহমিকা আমার নেই।’

সতীর্থ ব্রুনো গুইমারেসের পাশেও দাঁড়িয়েছেন ভিনিসিয়ুস। একটি পেনাল্টি মিস দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে তার অবদানকে বিচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় দলের জন্য খেলি। ওই মুহূর্তে ব্রুনোর পেনাল্টি নেওয়াটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। দুর্ভাগ্যবশত সে গোল করতে পারেনি। এটাই ফুটবল। আমাদের মাথা উঁচু রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। পুরো টুর্নামেন্টে ব্রুনো অসাধারণ খেলেছে। কিন্তু একটি পেনাল্টি মিস তার সেই পারফরম্যান্সকে কিছুটা আড়াল করে দিয়েছে।’

এদিকে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিও পেনাল্টি শ্যুটার নির্বাচনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া হয়নি; বরং খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেই আগে থেকে তালিকা তৈরি করা হয়েছিল।

আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা আমাদের খেলোয়াড় এবং প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের গত এক বছরের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমাদের দলে পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সেরা হলো নেইমার, এরপর যথাক্রমে ইগর থিয়াগো, রাফিনহা, ব্রুনো গুইমারেস এবং মার্তিনেল্লি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ব্রুনো গুইমারেসকে বেছে নিয়েছিলাম কারণ আমাদের মনে হয়েছিল ওই মুহূর্তে মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে ও-ই সেরা শ্যুটার ছিল।’

সহকারী কোচ দাভিদে আনচেলত্তিও জানিয়েছেন, ম্যাচে পেনাল্টি পেলে কে শট নেবেন, সেটি খেলা শুরুর আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। কোচের তালিকায় ব্রুনোর আগে থাকা নেইমার, ইগর থিয়াগো ও রাফিনহার কেউই তখন মাঠে ছিলেন না। নেইমারকে শুরুতে বেঞ্চে রাখা হয়েছিল এবং তিনি দ্বিতীয়ার্ধে নেমে যোগ করা সময়ে পাওয়া আরেকটি পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র গোল করেন। অন্যদিকে ইগর থিয়াগো শুরুর একাদশে ছিলেন না এবং রাফিনহা চোটের কারণে স্কোয়াডের বাইরে ছিলেন।

তবে সব ব্যাখ্যার পরও ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিস এবং ভিনিসিয়ুসের বল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে আলোচনা এখনো থামেনি। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর এই ঘটনাই এখন ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।