পেনাল্টি-লাল কার্ডে উত্তাপ ছড়াচ্ছে মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচ
রুদ্ধশ্বাস লড়াই, লাল কার্ড, দুই দলের পেনাল্টি আর একের পর এক গোল—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে দারুণ নাটকীয়তা উপহার দিচ্ছে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো। জুড বেলিংহামের জোড়া গোল ও হ্যারি কেইনের পেনাল্টিতে ১০ জনের দল হয়েও এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। তবে মেক্সিকোও দুই গোল শোধ করে ম্যাচে উত্তেজনা ধরে রেখেছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ম্যাচটি এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। দিনভর মেক্সিকো সিটিতে ভারী বৃষ্টি এবং আজতেকা স্টেডিয়ামের আকাশে বজ্রপাত হওয়ায় ফিফার নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী খেলা বিলম্বিত হয়। স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে সর্বশেষ বজ্রপাতের পর অন্তত ৩০ মিনিট না পেরোনো পর্যন্ত ম্যাচ শুরু করা যায়নি।
ম্যাচের শুরুতে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ড। ৩৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের সূচনা করা আক্রমণে ডেকলান রাইস বল বাড়ান বুকায়ো সাকার কাছে। সাকার নিখুঁত ক্রসে ডাইভিং হেডে জুড বেলিংহাম গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন।
এর মাত্র দুই মিনিট পর আবারও মেক্সিকোর রক্ষণভাগে আঘাত হানে থ্রি লায়ন্সরা। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের বল দখলের পর হ্যারি কেইন বক্সের ভেতরে বেলিংহামকে নিখুঁত পাস দেন। ডান পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার।
তবে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি মেক্সিকো। ৪২ মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়োনেস গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। শেষ দিকে আরও কয়েকবার সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করলেও বিরতির আগে আর গোল পায়নি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে হেসুস গায়ার্দোকে বিপজ্জনক ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জ্যারেল কোয়ানসা। ফলে শেষ প্রায় ৩৫ মিনিট ১০ জনের দল নিয়েই খেলতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে।
একজন কম নিয়েও আক্রমণ থামায়নি ইংল্যান্ড। ৬০ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনকে বক্সের ভেতর রাউল রানহেল ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করে নিজের ষষ্ঠ গোলের দেখা পান হ্যারি কেইন। তাতে ইংল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
তবে ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে কিছুক্ষণ পরই। বক্সের ভেতরে ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে ফাউল করেন কেইন। ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় মনিটরে দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন ম্যাচ কর্মকর্তা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্পট কিক থেকে গোল করেন রাউল হিমেনেস। ফলে ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করে মেক্সিকো।
এখন ম্যাচের শেষ সময় পর্যন্ত ১০ জনের দল নিয়ে এক গোলের লিড ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে মেক্সিকো। শেষ মুহূর্তে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে।