কোচের ঔদ্ধত্যের কারণেই কি হারল ব্রাজিল
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে হারার পর ব্রাজিলের বিদায়ের চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে কার্লো আনচেলত্তির কৌশল নিয়ে। ম্যাচের আগে আর্লিং হালান্ডকে থামাতে আলাদা পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন ব্রাজিল কোচ। আবার পুরোপুরি ফিট থাকা সত্ত্বেও নেইমারকে শুরুর একাদশে না রাখার সিদ্ধান্তও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত হালান্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করলেও দলের পারফরম্যান্সকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলতে রাজি নন আনচেলত্তি। তার দাবি, ব্রাজিল সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। একই সঙ্গে নরওয়ের দ্রুত পাল্টা আক্রমণের শঙ্কায় দলকে কিছুটা সতর্ক রেখেছিলেন বলেও জানান তিনি।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা সুযোগ তৈরি করেছি, কিন্তু সেগুলো থেকে গোল করতে পারিনি। নরওয়ের বিপক্ষে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে চাইনি, কারণ তারা দ্রুত আক্রমণে খুবই বিপজ্জনক। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আমাদের হাতে ছিল না।’
ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল নেইমারকে শুরুর একাদশে না রাখা। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হলেও তাকে বেঞ্চে রেখে শুরু করেন আনচেলত্তি। পরে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ব্রাজিলের আক্রমণে প্রাণ ফেরান নেইমার। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটিও করেন তিনি। তবে ততক্ষণে ম্যাচ অনেকটাই হাতছাড়া হয়ে যায়।
নেইমারকে শুরুতে না খেলানোর বিষয়ে আনচেলত্তি জানান, এটি ছিল পুরোপুরি ম্যাচ পরিকল্পনার অংশ। আগে থেকেই তিনি বলেছিলেন, নেইমার ৯০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত থাকলেও তাকে কখন মাঠে নামানো হবে, সেটি নির্ভর করবে ম্যাচের পরিস্থিতি ও দলের প্রয়োজনের ওপর।
অন্যদিকে ম্যাচের আগে হালান্ডকে নিয়ে করা আনচেলত্তির মন্তব্যও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নরওয়ের এই তারকাকে থামানোর জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই জানিয়েছিলেন তিনি।
আনচেলত্তি বলেছিলেন, ‘আমার ডিফেন্ডারদের হালান্ডকে কীভাবে সামলাতে হবে, সেটা আলাদা করে শেখানোর প্রয়োজন নেই। তারা আগেও তার বিপক্ষে খেলেছে। হালান্ডকে থামানোর আলাদা কোনো পরিকল্পনা বলে আমি কিছু দেখি না।’
কিন্তু মাঠের খেলায় সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়নি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ম্যাচের শেষ দিকে জোড়া গোল করে ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত করেন নরওয়ের অধিনায়ক। প্রথমে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করেন হালান্ড। এরপর দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
হারের পর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন আনচেলত্তি। তিনি স্বীকার করেন, ব্রাজিলের মাঝমাঠে আরও তরুণ ও গতিময় ফুটবলারের প্রয়োজন রয়েছে। এই ব্যর্থতা থেকেই নতুনভাবে দল গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ইতালিয়ান এই কোচ।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য একটি শিক্ষা। আমাদের উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে মাঝমাঠে নতুন শক্তি দরকার। এই পরাজয় থেকেই নতুন পথচলা শুরু হবে।’
এই হারের মাধ্যমে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলো ব্রাজিল। অন্যদিকে আর্লিং হালান্ডের অনুপ্রেরণায় ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিল নরওয়ে।