ইউরোপীয় জুজু ভাঙার অগ্নিপরীক্ষা: দুই দশকের অভিশাপ মুছে নরওয়েকে রুখতে পারবে ব্রাজিল?
২০০২ সালে এশিয়ায় শেষবার বিশ্বজয়ের সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর থেকে নকআউট পর্বে গেলেই এক অদ্ভুত ও রহস্যময় ইউরোপীয় আতঙ্কে ভুগছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গত দুই দশক ধরে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম কোনো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ড তাড়া করে বেড়াচ্ছে সেলেসাওদের।
২০০৬ সালে ফ্রান্সের কাছে হার দিয়ে শুরু হওয়া এই ধারা পরবর্তীতে ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস, ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে ঘরের মাঠে সেই ঐতিহাসিক ৭-১ ব্যবধানের বিপর্যয়, ২০১৮ সালে বেলজিয়াম এবং সবশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয়েছিল তাদের হেক্সা মিশন।
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ যখন ব্রাজিল মাঠে নামছে, তখন তাদের সামনে আবারও দাঁড়িয়ে ইউরোপেরই এক পরাশক্তি—আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে। এই আসরের নকআউট পর্বে এটিই সেলেসাওদের প্রথম ইউরোপীয় বাধা, যা দলটির জন্য দুই দশকের পুরোনো সেই অতীত বৃত্ত ভাঙার কিংবা সেই একই দুঃখজনক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির এক কঠিন পরীক্ষা।
অন্যদিকে নরওয়ের লক্ষ্য পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই চিরচেনা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের স্তব্ধ করে দেওয়া এবং নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের প্রতিকূল ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার মাঝে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল তাদের জাপানের বিপক্ষে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন পর্বের ছন্দ ধরে রাখতে মরিয়া। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন এই ব্লকবাস্টার ম্যাচের দিকে, যেখানে আজ নির্ধারিত হবে দুই দশকের ইউরোপীয় জুজু কাটিয়ে ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকো বা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে, নাকি হালান্ডের নরওয়ে নতুন রূপকথা লিখবে।