০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯

ম্যাচ শেষে অঝোরে কাঁদলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস, কিন্তু কেন

লিসান্দ্র মার্টিনেস  © সংগৃহীত

কেপ ভার্দের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার আনন্দের মধ্যেও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি লিসান্দ্রো মার্তিনেস। ম্যাচ শেষে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে গিয়ে দীর্ঘ চোটের সময়ের কথা মনে করে চোখ ভিজে যায় আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডারের। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করার আনন্দের সঙ্গে ফিরে আসে কঠিন পুনর্বাসনের স্মৃতি, আর সেখানেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনার অন্যতম নায়ক ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার। প্রথমে নিজের পাস থেকে লিওনেল মেসিকে দিয়ে গোল করান। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে নিজেই দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। তার পারফরম্যান্সই আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে লিসান্দ্রো বলেন, ‘আমি ওই সময়ের কথা খুব বেশি ভাবতে চাই না। সেসব নিজের মধ্যেই রাখতে চেষ্টা করি। সময়টা খুব কঠিন ছিল। আমার ক্লাব, জাতীয় দল—সবাইকে ধন্যবাদ। সত্যি বলতে আমি খুবই আনন্দিত।’

চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে যাদের সমর্থন পেয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। লিসান্দ্রো বলেন, ‘অনেক মানুষ আমার পাশে ছিল। আমি সবার প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ।’

কঠিন সময়ের আরেকটি স্মৃতিও ভাগ করে নেন এই ডিফেন্ডার। তিনি বলেন, ‘চোটের এক মাস পর আমার ছেলের জন্ম হয়েছিল। ও না থাকলে হয়তো আজ আমি এখানে থাকতাম না।’

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের মুহূর্তও ছিল বিশেষ। মেসির গোলে অ্যাসিস্ট করার পর নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তখন কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, সেটাও বুঝতে পারিনি। ছেলেদের সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে শুধু উদযাপন করেছি।’

বর্তমান আর্জেন্টিনা দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসও প্রকাশ করেন লিসান্দ্রো। তিনি বলেন, ‘এই দল কখনো হাল ছেড়ে দেয় না। আমাদের এই দলের মধ্যে দারুণ একটি শক্তি ও ঐক্য আছে।’

বিশ্বকাপে দলের লক্ষ্য নিয়েও আশাবাদী তিনি। লিসান্দ্রো বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।’

কেপ ভার্দের কঠিন লড়াইয়ের প্রশংসাও করেন এই ডিফেন্ডার। তিনি বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি। নকআউট ম্যাচ এমনই হয়। কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। তারা দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছে। এজন্য তাদের অভিনন্দন প্রাপ্য।’

অন্যদিকে, ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসিও। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল প্রথম গোলটি করা। আমরা ভেবেছিলাম, গোল পাওয়ার পর নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে পারব এবং আরও স্বস্তিতে খেলতে পারব। কিন্তু ঠিক উল্টোটা হয়েছে। আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি, অনেকটা নিচে নেমে গিয়েছি এবং ঠিকভাবে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারিনি। তারা নিজেদের শক্তির জায়গা কাজে লাগিয়েছে। আমরা জানতাম ম্যাচটি কঠিন হবে। নকআউট পর্বে কেউ কাউকে কিছু উপহার দেয় না। আমরা অনেক সময় শুধু নাম দেখে প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখি, কিন্তু জানতাম এই ম্যাচ মোটেও সহজ হবে না।’

মেসি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হবে। আজ আমরা ভালো বা খারাপ—যেভাবেই খেলি না কেন, অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। এখন সামনে কী আছে, সেটি নিয়ে ভাবতে হবে। আজকের ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকগুলো নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমরা পরের রাউন্ডে উঠেছি, এটিও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আমাদের ভুলগুলোও শুধরে নিতে হবে, কারণ আজ এমন ভুল অনেক ছিল।’

শুক্রবার রাতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে প্রথমে মেসি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পরে আফ্রিকার দলটি দুইবার সমতায় ফিরিয়ে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শেষ দিকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে জয়ে বড় অবদান রাখেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস।

কঠিন এই বাধা পেরিয়ে এখন শেষ ষোলোর লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় আটলান্টায় মিসরের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল।