কষ্টার্জিত জয়ের মধ্যেই বড় দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা
বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরে কেপ ভার্দের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বাধা পেরিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে এই কষ্টার্জিত জয়ের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচ শেষ হতেই এনজো ফার্নান্দেজ, ফাকুন্দো মেদিনা ও নিকো গনসালেসের শারীরিক অবস্থা নতুন করে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে। ফলে মিসরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাদের ফিটনেসই এখন আর্জেন্টিনা শিবিরের সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ।
আগামী মঙ্গলবার দুপুর ১টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মিসরের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই ম্যাচের আগে স্কালোনির নজর এখন চোটে পড়া বা শারীরিক অস্বস্তিতে থাকা ফুটবলারদের দ্রুত সুস্থ করে তোলার দিকে।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে প্রথমে ফাকুন্দো মেদিনা নিজেই বদলির ইঙ্গিত দেন। তিনি মাঠে বসে পড়েন এবং হতাশায় মাটিতে হাত চাপড়াতে থাকেন । একই সময়ে এনজো ফার্নান্দেজকে বাম পায়ের কাফ ধরে থাকতে দেখা যায়। যদিও তিনি খেলা চালিয়ে যান। এরপর অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর বদলি হিসেবে নামা নিকো গনসালেস বাম গোড়ালিতে মচকান। কিছু সময় মাঠে শুয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ করেন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এনজো ফার্নান্দেজের অবস্থা নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘শেষ দিকে এনজো একটু পেশিতে টান অনুভব করেছিল। পরে সে কিছুটা স্বাভাবিক হয়। কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষে আবারও তার পেশিতে টান ধরে। তখন আমাদের আর কোনো পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না।’
পরে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এনজো নিজেও বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘৭৫ থেকে ৮০ মিনিটের দিকে আমার পেশিতে টান ধরেছিল। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে হলে সব সময় একটু বাড়তি কিছু দিতে হয়। ছোটবেলায় আমি সব সময় এখানে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। সেই স্বপ্নই আমাকে বাড়তি শক্তি দেয়।’
ফাকুন্দো মেদিনার অবস্থা নিয়েও আশ্বস্ত করেছেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘ফাকুন্দোকে নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। ও ম্যাচ শেষে খুব ক্লান্ত ছিল, কারণ আমরা তাকে আক্রমণভাগে অনেক বেশি ব্যবহার করেছি। সে সাধারণত এতটা ওপরে উঠে খেলে না। এর আগে সে তৃতীয় সেন্টার-ব্যাক হিসেবে খেলেছে, যেখানে আক্রমণে খুব বেশি যেতে হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওর পেশিতে টান ধরেছিল, তবে এখন ভালো আছে। সৌভাগ্যবশত বেঞ্চে নিকো টালিয়াফিকো ছিল, যে প্রয়োজনের সময় আমাদের সাহায্য করেছে এবং মাঠে নেমে ভালো খেলেছে।’
দলের লড়াকু মানসিকতারও প্রশংসা করেন আর্জেন্টিনা কোচ। তিনি বলেন, ‘যখন হৃদয় দিয়ে খেলা হয়, যেমন আমার খেলোয়াড়রা খেলেছে, তখন শারীরিক ক্লান্তির অনেকটাই ভুলে থাকা যায়। এই দল চরিত্রের দারুণ একটি উদাহরণ দেখিয়েছে। যেখানে ভুল হয়েছে, সেগুলো আমরা ঠিক করব।’
একই সঙ্গে বিশ্বকাপের সূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের বিশ্রাম নিতে হবে, কারণ হাতে খুব কম সময় আছে। আগে ম্যাচের মাঝে ছয় দিনের বিরতি ছিল, এখন মাত্র তিন দিন। আমার মনে হয় বিষয়টি উল্টো হওয়া উচিত ছিল। টুর্নামেন্ট যত এগোয়, বিশ্রামের প্রয়োজন তত বেশি হয়। অথচ তখনই সবচেয়ে কম সময় পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি বোঝা সত্যিই কঠিন। আমার মতে, বিশ্রামের সময় কমার বদলে ধীরে ধীরে বাড়া উচিত ছিল।’