০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৪২

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৮৮ বছর পর জয় পেল সুইজারল্যান্ড

সুইজারল্যান্ড দল   © সংগৃহীত

দীর্ঘ ৮৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেল সুইজারল্যান্ড। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ইউরোপের দলটি। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখানো সুইসরা ব্রিল এমবোলো ও ড্যান এনদোয়ের গোলে নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার তাদের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া অথবা ঘানা।

বিশ্বকাপে পরিচিত মুখ হলেও নকআউট পর্ব বরাবরই সুইজারল্যান্ডের জন্য হতাশার নাম ছিল। ১৯৩৪, ১৯৩৮ ও ১৯৫৪ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও এরপর প্রতিবারই গ্রুপ পর্ব বা প্রথম নকআউট ধাপেই বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে। অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল মুরাত ইয়াকিনের শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সুইজারল্যান্ড। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। ১১ মিনিটে জোহান মানজাম্বির দারুণ অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন ব্রিল এমবোলো। দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে মানজাম্বি বল বাড়িয়ে দেন এমবোলোর কাছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত শটে দলকে এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে আলজেরিয়া। তবে সুইজারল্যান্ডও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে থাকে। ৩২ মিনিটে রুবেন ভার্গাস বাম দিক দিয়ে ঢুকে বিপজ্জনক ক্রস তুললেও আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার রায়ান আইত-নুরি সেটি ক্লিয়ার করেন।

এর পাঁচ মিনিট পর আবারও সুযোগ পায় সুইসরা। রুবেন ভার্গাসের ফ্রি-কিক থেকে হেড করেছিলেন ডেনিস জাকারিয়া। প্রায় সাত বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোল করার সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি তিনি। প্রথমার্ধ ১-০ গোলের লিড নিয়েই শেষ করে সুইজারল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আরও বড় ধাক্কা খায় আলজেরিয়া। ৪৬ মিনিটে দারুণ এক শটে দলের দ্বিতীয় গোল করেন ড্যান এনদোয়ে। এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সুইজারল্যান্ড।

অবশ্য ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল আলজেরিয়া। ডিফেন্ডার রফিক বেলগালির পাস থেকে আক্রমণে ওঠেন রিয়াদ মাহরেজ। কিন্তু সুইস রক্ষণভাগ ভেদ করে গোল আদায় করতে পারেননি তিনি।

দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও আক্রমণের ধার কমায়নি সুইজারল্যান্ড। একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে ব্যবধান আর বাড়ানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ডেনিস জাকারিয়া একাধিক সুযোগ নষ্ট করেন।

৮১ মিনিটে গ্রানিত জাকার সঙ্গে দারুণ পাস আদান-প্রদানের পর এমবোলো বল বাড়িয়ে দেন ফাবিয়ান রিডারের কাছে। কিন্তু রিডারের শট সরাসরি চলে যায় আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের হাতে।

শেষ দিকে ম্যাচের গতি কিছুটা কমিয়ে ফল ধরে রাখার দিকেই মনোযোগ দেয় সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে আরও ছয় মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেন রেফারি। শেষ বাঁশি বাজতেই আনন্দে মেতে ওঠেন সুইস খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ।

অন্যদিকে, হারের হতাশায় ভেঙে পড়েন আলজেরিয়ার ফুটবলাররা। ম্যাচ শেষে কয়েকজনকে ভ্যাঙ্কুভারের সবুজ ঘাসে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। ২-০ গোলের এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নিতে হলো আফ্রিকার প্রতিনিধিদের।

এই জয়ের মাধ্যমে শুধু শেষ ষোলোর টিকিটই নিশ্চিত করেনি সুইজারল্যান্ড, একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রায় নয় দশকের অপেক্ষারও অবসান ঘটিয়েছে তারা। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে কলম্বিয়া কিংবা ঘানার বিপক্ষে মাঠে নামবে সুইসরা।