০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৮

বিশ্বকাপে ইরান বাদ পড়ায় ফিফার বিরুদ্ধে মামলা, ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি

বিতর্কিত অফসাইট   © সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায় এবার গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে টুর্নামেন্টে তিনটি ম্যাচেই অপরাজিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্বে উঠতে পারেনি ইরান। এবার সেই বিদায়ের জন্য সরাসরি ফিফাকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ৯ কোটি ১০ লাখ ইরানি নাগরিকের পক্ষে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৩০৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়কে কেন্দ্র করে বোস্টনের ফেডারেল কোর্টে মামলাটি করেছেন ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক লুৎফুল্লাহ কাভেহ আফ্রাসিয়াবি। তার অভিযোগ, ফিফার বৈষম্যমূলক আচরণ এবং ভিএআরের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে ইরানকে। মামলায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকেও বিবাদী করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট' প্রথম এ খবর প্রকাশ করে।

আফ্রাসিয়াবির দাবি, মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে শুজা খলিলজাদেহর করা গোলটি অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়েছিল। গোলটি বহাল থাকলে ইরান ম্যাচটি জিতত এবং বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিত। কিন্তু ভিএআর অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেখিয়ে গোলটি বাতিল করে দেয়, যা ছিল অন্যায্য।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, 'ইরানি নাগরিক অথবা ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরা, যারা ইরানের ফুটবল দলকে মনেপ্রাণে সমর্থন করছিলেন, তারা তাদের প্রিয় দলের বিরুদ্ধে এই স্পষ্ট বৈষম্য দেখে মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।'

৬৮ বছর বয়সী লুৎফুল্লাহ কাভেহ আফ্রাসিয়াবি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর বিশ্লেষক। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় ইরানের পরমাণু চুক্তি আলোচনায় আনুষ্ঠানিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মামলায় তিনি দাবি করেন, রেফারি ও ভিএআরের সম্পূর্ণ অন্যায্য এবং একতরফা সিদ্ধান্তের কারণেই ইরান বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। তার ভাষ্য, এ দাবির পক্ষে স্পষ্ট ও অনস্বীকার্য প্রমাণ রয়েছে।

শুধু মাঠের সিদ্ধান্ত নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরান দলের সঙ্গে করা আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আফ্রাসিয়াবি। তার অভিযোগ, বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে রাত কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাদের ভ্রমণের ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এতে বাধ্য হয়ে দলটিকে অনুশীলনের মূল ক্যাম্প মেক্সিকোতে স্থানান্তর করতে হয়। এছাড়া ইরানের প্রতিনিধি দলের ১১ সদস্যকে মার্কিন সরকার ভিসা দিতেও অস্বীকৃতি জানায়।

আফ্রাসিয়াবির মতে, অংশগ্রহণকারী সব দেশের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা এবং প্রস্তুতির পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল ফিফার। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। মার্কিন সরকারের কাছ থেকে পাওয়া এসব বৈষম্যমূলক আচরণ ও অপমান বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ইরানি নাগরিককে গভীরভাবে আঘাত করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, এই আইনি লড়াইয়ে জয়ী হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ ইরানের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের খেলাধুলার উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দান করবেন।

এদিকে চলমান এই মামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা বিবৃতি দেয়নি ফিফা।

উল্লেখ্য, ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের করা ফিফার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম মামলা নয়। এর আগে গত জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে করা আরেকটি মামলায় ফিফার পক্ষেই রায় দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলায় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ইরানের বর্তমান সরকারবিরোধী এবং ইসলামিক বিপ্লব-পূর্ব যুগের পতাকা প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছিল। তবে ফিফা স্টেডিয়ামের ভেতরে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা প্রতীক প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে এবং আদালতও সেই নীতিকে বৈধতা দেয়।