০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮

যেকোনো সময় জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো!

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো  © সংগৃহীত

যেকোনো সময় জাতীয় দলকে বিদায় জানাতে পারেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তার বোন কাতিয়া আভেইরো। এদিকে, বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। শেষ মুহূর্তের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।

এদিন শেষ ৩২-এর ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। ৭৯তম মিনিটে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। বদলি হওয়ার সিদ্ধান্তে স্পষ্টতই অসন্তুষ্ট ছিলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। মাঠ ছাড়ার সময় তার মুখে ফুটে ওঠে হতাশার ছাপ।

রোনালদোর পরিবর্তে নতুন খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণে গতি আনার চেষ্টা করেন মার্তিনেজ। তবে এই বদল আরেকটি প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে—এটাই কি বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ ম্যাচ? ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সেই প্রশ্নই।

৪১ বছর বয়সী রোনালদো বর্তমানে পর্তুগাল দলের অধিনায়ক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য শিরোপা জিতলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও তার অধরা। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়েই এবার মাঠে নেমেছেন তিনি।

বয়সের কারণে অনেকেরই ধারণা ছিল, এটিই হবে রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। যদিও কেউ কেউ মনে করেছিলেন, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্তুগালের সহ-আয়োজক হওয়ায় তিনি হয়ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও কিছুদিন খেলতে পারেন।

তবে কাতিয়া আভেইরোর বক্তব্যে ভিন্ন ইঙ্গিত মিলেছে। পর্তুগিজ গণমাধ্যম স্পোর্ত টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করা উচিত। ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগাল দুই দলেরই দুইজন কিংবদন্তি ফুটবলারের জন্য এটি শেষ নৃত্য। গত দুই দশকেরও বেশি সময়ে আমরা যা দেখেছি, জিতেছি এবং যে পথ পেরিয়ে এসেছি, সেটিই এখন উপভোগ করার সময়।

ইউরো ২০২৮-এ রোনালদোকে অধিনায়ক হিসেবে দেখা যেতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আভেইরো বলেন, আমার কাছে যে তথ্য আছে, তাতে তারা বিদায় জানাবে। যত দিন আছে, উপভোগ করুন। আজই তারা বিদায় বলছে না, তবে খুব শিগগিরই জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন তিনি। আমার বিশ্বাস, এটাই তাদের বিদায়ের আসর।

ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো পর্তুগালের হয়েও সর্বোচ্চ গোলের মালিক। জাতীয় দলের হয়ে ২৩১ ম্যাচে তিনি করেছেন ১৪৫ গোল। ২০১৬ সালে পর্তুগালকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতানোর মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম বড় ট্রফি জেতেন তিনি।

তবে বিশ্বকাপ এখনও তার অর্জনের তালিকায় যোগ হয়নি। ২০২২ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপ জিততে দেখেছেন রোনালদো। আর নিজে সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলেন ২০০৬ সালে, যখন পর্তুগাল সেমিফাইনালে উঠেছিল।

যদি রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন, তাহলে তার পুরো মনোযোগ থাকবে ক্লাব ফুটবলে। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের হয়ে খেলছেন। ২০২৫ সালের জুনে ক্লাবটির সঙ্গে তিনি রেকর্ড অঙ্কের নতুন দুই বছরের চুক্তি করেন।

এর আগে রোনালদো ঘোষণা দিয়েছিলেন, ক্যারিয়ারে এক হাজার গোল পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত খেলে যেতে চান। গত জুনে তিনি বলেছিলেন, খেলে যাওয়া কঠিন, কিন্তু আমি অনুপ্রাণিত। আমার আবেগ এখনও আগের মতোই আছে এবং আমি খেলতে চাই। আমি মধ্যপ্রাচ্যে খেলি কিংবা ইউরোপে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

বর্তমানে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে রোনালদোর গোলসংখ্যা ৯৬৯। ফলে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে তিনি এক হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শের লক্ষ্যেই এগিয়ে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি পাঁচটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। পাশাপাশি ব্যালন ডি'অর এবং এল ক্লাসিকোর মঞ্চে লিওনেল মেসির সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়েছেন তিনি।