০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪

নাটকীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ  © সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে পর্তুগাল। শেষ মুহূর্তের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের বাধা পেরিয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে টরন্টোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে গনসালো রামোসের জয়সূচক গোলে জয় নিশ্চিত করে পর্তুগিজরা। শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে ক্রোয়েশিয়া সমতায় ফিরলেও ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। ফলে হতাশা নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় লুকা মদ্রিচদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল। রাফায়েল লিয়াওর গতি, ব্রুনো ফার্নান্দেজের সৃজনশীলতা এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উপস্থিতি ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি তারা।

চতুর্থ মিনিটেই লিয়াওর দারুণ দৌড়ে তৈরি হওয়া সুযোগ থেকে পরপর দুটি শট নেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তবে দুইবারই অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচ। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়াও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালালেও গোল করতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথম ৪৫ মিনিট।

বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫৩তম মিনিটে ইয়োসিপ স্তানিশিচের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন ইভান পেরিসিচ। এই গোলে ম্যাচে চাপে পড়ে যায় পর্তুগাল।

সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠা পর্তুগাল ৬০তম মিনিটে জালের দেখা পেলেও আনন্দ করতে পারেনি। গোল করার পর উদ্‌যাপনে মেতে উঠতে যাচ্ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিন্তু লাইন্সম্যানের অফসাইডের পতাকায় বাতিল হয়ে যায় গোলটি।

তবে হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৮তম মিনিটে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পট কিক থেকে চিরচেনা আত্মবিশ্বাসে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান রোনালদো। মাঝ বরাবর নেওয়া তার নিখুঁত শটে ভুল দিকে ঝাঁপ দেন গোলরক্ষক লিভাকোভিচ।

ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। মাতেও কোভাচিচের প্রথম শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলেও জোরালো শট নেন তিনি, কিন্তু দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে অবিশ্বাস্য সেভ করেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।

শেষদিকে রোনালদোকে তুলে রুবেন নেভেসকে মাঠে নামান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। সেই পরিবর্তনের পরই আসে কাঙ্ক্ষিত ফল। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওর বাড়ানো বল থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে উঠে হেডে জাল খুঁজে নেন গনসালো রামোস। তাতেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

এরপর শেষ মুহূর্তে পর্তুগালের জালে বল জড়িয়ে সমতায় ফেরার আশা দেখেছিল ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল, আর নাটকীয় এক পরাজয়ে বিশ্বকাপের অভিযান শেষ হয় ক্রোয়েশিয়ার।