০২ জুলাই ২০২৬, ১৪:৩০

পাকেতার বদলি হিসেবে আনচেলত্তির সামনে একাধিক বিকল্প

পাকেতা   © টিডিসি ফটো

পাকেতার চোটে শেষ ষোলোর আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লুকাস পাকেতাকে ছাড়াই একাদশ সাজাতে হবে কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। তার পরিবর্তে কাকে খেলানো হবে, সেটি নিয়েই এখন চলছে জোর আলোচনা। দানিলো সান্তোস সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও ফাবিনিয়ো, এদেরসন, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, এন্দ্রিক ও নেইমার—সবাই রয়েছেন আনচেলত্তির বিবেচনায়।

জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে উরুতে চোট পান পাকেতা। পরীক্ষায় তার চোট নিশ্চিত হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপের বাকি অংশ থেকেও ছিটকে গেছেন।

রবিবার (ব্রাসিলিয়া সময়) নিউ জার্সিতে নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ম্যাচটির আগে কোচিং স্টাফ খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি কাটানোর জন্য ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়ের ছুটি দেয়। হিউস্টনে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে দীর্ঘ ভ্রমণের পর বুধবার বিকেলে সবাই আবার অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দেন।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আনচেলত্তির হাতে থাকবে তিনটি অনুশীলন সেশন। এই সময়ের মধ্যেই তিনি চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করবেন। পাকেতার জায়গায় দানিলো সান্তোস, ফাবিনিয়ো, এদেরসন, নেইমার, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও এন্দ্রিক—এই ছয়জনের মধ্যে কাউকে বেছে নেওয়া হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন দানিলো সান্তোস। আনচেলত্তি যদি হাইতি, স্কটল্যান্ড ও জাপানের বিপক্ষে ব্যবহৃত ৪-৩-৩ ছকেই খেলতে চান, তাহলে দানিলোই সবচেয়ে স্বাভাবিক পছন্দ।

বোটাফোগোর এই মিডফিল্ডার পাকেতার মতোই মাঠের একই অংশে খেলেন। তিনিও বাঁ-পায়ের ফুটবলার। স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে অনুশীলনে ব্রুনো গিমারায়েসের পাশে একই ভূমিকায় তাকে পরীক্ষা করেছিলেন আনচেলত্তি। তাই পাকেতার জায়গা পূরণে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

তবে আনচেলত্তি যদি মিডফিল্ডকে আরও শক্তিশালী ও রক্ষণাত্মক করতে চান, তাহলে ফাবিনিয়ো কিংবা এদেরসনকে সুযোগ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ব্রাজিল ৪-৩-৩ ছকেই খেলবে। কাসেমিরোর পাশে দ্বিতীয় ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলবেন ফাবিনিয়ো বা এদেরসন। তবে এতে আক্রমণ তৈরি এবং সামনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংযোগ তৈরির বড় দায়িত্ব চলে যাবে ব্রুনো গিমারায়েসের কাঁধে।

জাপানের বিপক্ষে বিরতির পর পাকেতার বদলি হিসেবে এন্দ্রিককে নামিয়েছিলেন আনচেলত্তি। তিনি স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন, আর মাতেউস কুনিয়া কিছুটা নিচে নেমে মিডফিল্ডারের মতো দায়িত্ব পালন করেন। ফলে ব্রাজিল কখনো ৪-৩-৩, আবার কখনো ৪-২-৪ ছকে খেলতে থাকে।

ম্যাচ শেষে এই কৌশল আবারও ব্যবহার করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন আনচেলত্তি। যদিও দলের ভেতরের তথ্য বলছে, নরওয়ের বিপক্ষে শুরু থেকেই এই ছকে খেলার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।

এন্দ্রিকের পারফরম্যান্স নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, 'আমরা এইভাবে ম্যাচ শুরু করতে পারি। আসলে আমাদের বক্সের ভেতরে আরও শক্তি দরকার ছিল। এন্দ্রিক সেই শক্তি এবং উপস্থিতি দিতে পেরেছে। সে খুব ভালো খেলেছে, কারণ সে ছিল খুবই প্রাণবন্ত এবং প্রতিপক্ষের জন্য সবসময় বিপজ্জনক।'

আনচেলত্তি চাইলে আরও আক্রমণাত্মক ৪-২-৪ ছকে ফিরতে পারেন। সে ক্ষেত্রে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি একাদশে জায়গা পেতে পারেন। জাপানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে তিনি ভেতরের দিকে খেলেছিলেন। তবে প্রয়োজন হলে বাম প্রান্তেও খেলতে পারেন। তখন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে আরও ভেতরে এনে মাতেউস কুনিয়ার কাছাকাছি খেলানো হবে।

গত বছরের জুনে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিল এই কৌশলেই খেলেছিল। সেই ম্যাচ জিতেই তারা বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিল।

আরেকটি বিকল্প হিসেবে নেইমারও রয়েছেন। তাকে ব্রুনো গিমারায়েসের পাশে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানো যেতে পারে। তবে দলের ভেতরের তথ্য বলছে, এই সম্ভাবনা খুবই কম। কোচিং স্টাফের বিশ্বাস, নেইমার এখনো পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো শারীরিকভাবে প্রস্তুত নন। তাই দ্বিতীয়ার্ধে তাকে নামিয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার পরিকল্পনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

পাকেতার পরিবর্তে কাকে খেলানো হবে, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার নিউ জার্সির কলম্বাস পার্ক ট্রেনিং সেন্টারে অনুশীলনের সময় কার্লো আনচেলত্তি ও তার কোচিং স্টাফ বিস্তারিত আলোচনা করবেন। এরপরই নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

রবিবার (ব্রাসিলিয়া সময়) বিকেল ৫টায় নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের যাত্রা কোয়ার্টার ফাইনালে এগোবে, নাকি শেষ হবে শেষ ষোলোর মঞ্চেই।