০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮

রোনালদো নাকি লুকা মদরিচ, কার মুখে শেষ হাসি ফুটবে

রোনালদো ও মদরিচ   © টিডিসি ফটো

একদিকে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার অবিসংবাদিত নেতা লুকা মদরিচ। বিশ্ব ফুটবলের দুই কিংবদন্তির একজনের স্বপ্ন শেষ হবে, অন্যজন এগিয়ে যাবেন শেষ ষোলোতে। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটিতে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় মুখোমুখি হবে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিয়েছেন দুই দলের কোচই। পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বলছেন, তার দল প্রস্তুত। আর ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ মনে করেন, এটি হবে মধ্যমাঠের কঠিন এক যুদ্ধ।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রবার্তো মার্তিনেজ জানান, নকআউট পর্বের জন্য তার দল মানসিক ও শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শক্তি ও প্রস্তুতি দুটোই আছে, আগামীকাল শুধু বিশ্বাস রাখতে হবে।’

দলের পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমাদের ঐক্য, প্রতিভা এবং প্রতিশ্রুতির কারণে দলটা খুবই শক্তিশালী। আমি আত্মবিশ্বাসী। আমরা যে তিনটি ম্যাচ খেলেছি, তা আমাদের প্রস্তুতির অংশ ছিল। কঠিন মুহূর্তেও আমরা দৃঢ়তা ও তীব্রতা দেখিয়েছি। যখন আপনি ভালো পর্যায়ে থাকেন, তখন জেতাটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি হারাটাও গুরুত্বপূর্ণ। কলম্বিয়ার বিপক্ষে না হারাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশ্বকাপ আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে।’

ক্রোয়েশিয়াকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন পর্তুগাল কোচ। তার মতে, বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারাই হবে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়া বরাবরই এমন, তারা বল নিজেদের দখলে রাখতে পছন্দ করে। তারা কারিগরিভাবে দক্ষ একটি দল এবং তাদের বেশ প্রভাবশালী খেলোয়াড় রয়েছে। এরপর তারা কৌশলে পরিবর্তন আনে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা খুব হাই প্রেস করার চেষ্টা করেছিল, পরে আরও বাস্তববাদী ফুটবল খেলেছে। আগামীকাল বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ হবে। কোনো চমক নেই, দুই দলই একে অপরকে খুব ভালোভাবে চেনে।’

সমালোচনা বা চাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন মার্তিনেজ। তার মতে, বিশ্বকাপে প্রতিটি দলই একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে এমনটাই হয়, এটা শুধু পর্তুগালেই নয়। সব ম্যাচই খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। লড়াই করার মানসিকতা এবং শেষ পর্যন্ত সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার মূল্যবোধ আমাদের আছে। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা আমাদের সর্বস্ব দিতে প্রস্তুত।’

রোনালদো ও মদরিচকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মার্তিনেজ বলেন, ‘তাঁরা কিংবদন্তি, তাঁদের মতো উদাহরণ থাকাটা জরুরি। আশা করি, এটাই রোনালদোর শেষ খেলা নয়।’

দলের সব খেলোয়াড় প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তারা প্রস্তুত আছে। আমরা ইতিমধ্যে ২১ জন খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়েছি।’

অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না। তিনি মনে করেন, নকআউট পর্বে ভুলের কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘নতুন একটি প্রতিযোগিতা আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে। আমাদেরও কিছু কঠিন সময় গেছে। আমরা জানি, সামনে এমন একটি দলের মুখোমুখি হচ্ছি, যাদের খেলোয়াড়রা বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোতে খেলে, অনেক শিরোপা জিতেছে এবং যাদের দুর্বলতা খুবই কম।’

পর্তুগালকে এই পর্যায়ের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করলেও নিজেদের খেলার ধরন বদলাতে চান না তিনি।

তিনি বলেন, ‘পর্তুগালের খেলোয়াড়রা কৌশলগত ও কারিগরি দিক থেকে বিশ্বের সেরাদের মধ্যে। তাই আমাদের খেলার ধরন বিবেচনায় আমি মধ্যমাঠে কঠিন লড়াইয়ের আশা করছি। আমরা নিজেদের ফুটবল বদলাব না। তবে পর্তুগালের মতো দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে আমাদের আক্রমণাত্মক এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকতে হবে।’

পরিসংখ্যান অবশ্য ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কথা বলছে। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মূল পর্ব কিংবা অফিসিয়াল ম্যাচে এখন পর্যন্ত পর্তুগালকে হারাতে পারেনি তারা। তবে সেই রেকর্ড বদলানোর স্বপ্ন দেখছেন দালিচ।

তিনি বলেন, ‘তাদের নকআউট ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। তবে এই জায়গায় আমরাও শক্তিশালী। আমি বিশ্বাস করি, আমরা জিততে পারি। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মনোযোগ ধরে রাখা এবং যত কম সম্ভব ভুল করা। আসলে আমাদের ভুল করার কোনো সুযোগ নেই।’

২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সেই দুটি আসর ছিল অবিশ্বাস্য, তবে কিছুটা অপ্রত্যাশিতও। সেই সাফল্য আবার অর্জন করা কঠিন হবে। এখন আমাদের দলে সেই প্রজন্মের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে উঠে আসা নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সমন্বয় রয়েছে।’

বিশ্বকাপের এই মহারণে তাই নজর থাকবে দুই কিংবদন্তি অধিনায়ক—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদরিচের দিকে। একজনের নেতৃত্বে পর্তুগাল, অন্যজনের নেতৃত্বে ক্রোয়েশিয়া। শেষ পর্যন্ত কার নেতৃত্বে দল শেষ ষোলো নিশ্চিত করবে, আর কার বিশ্বকাপযাত্রা থেমে যাবে—সেই উত্তর মিলবে বৃহস্পতিবার ভোরের লড়াইয়ে।