০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৬

তান্ত্রিকের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করলেন হ্যারি কেন, শঙ্কায় আর্জেন্টিনা

হ্যারি কেন, তান্ত্রিক ও মেসি  © টিডিসি ফটো

ম্যাচের আগে ঘানার আলোচিত তান্ত্রিক নানা কোয়াকু বনসাম বলেছিলেন, শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেনের জোড়া গোলে জিতবে ইংল্যান্ড। অবিশ্বাস্যভাবে সেই ভবিষ্যদ্বাণীই যেন বাস্তবে মিলেছে। ৭৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড অধিনায়ক শেষদিকে টানা দুই গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জিতিয়ে শেষ ষোলোয় তুলেছেন। আর সেই ঘটনাই নতুন করে আলোচনায় এনেছে বনসামকে, যিনি এবার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন কেপ ভার্দের কাছে বিদায় নেবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। নবম মিনিটে অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বার নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে ব্রায়ান সিপেঙ্গা ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল করে এগিয়ে দেন কঙ্গোকে। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে বিপাকে পড়ে যায় থ্রি লায়নসরা।

গোল হজমের পর একের পর এক আক্রমণ চালায় ইংল্যান্ড। ৩০ মিনিটে জুড বেলিংহামের শক্তিশালী হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি। পাঁচ মিনিট পর মার্কাস রাশফোর্ডের জোরালো শটও কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে যায়।

৪২ মিনিটে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছিল ডিআর কঙ্গো। অ্যারন ওয়ান-বিসাকার বাড়ানো বলে ইওয়ান উইসার প্রথম শট পোস্টে লেগে ফিরে আসায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় ইংল্যান্ড।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও বেলিংহামের হেড অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে ঠেকিয়ে দেন এমপাসি। নিশ্চিত গোল থেকে ইংল্যান্ডকে বঞ্চিত করে বিরতিতে দলের লিড ধরে রাখেন কঙ্গোর গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমেনি ইংল্যান্ডের। ৫৪ মিনিটে বেলিংহামের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদল করলেও দুর্দান্ত সেভে আবারও দলকে রক্ষা করেন এমপাসি।

অবশেষে ৭৫ মিনিটে ভাঙে কঙ্গোর রক্ষণ। অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো বলে হেড করে সমতা ফেরান হ্যারি কেন। কঙ্গোর গোলরক্ষক বল স্পর্শ করলেও সেটি জালে জড়াতে বাধা দিতে পারেননি।

সমতায় ফেরার মাত্র ১১ মিনিট পর আবারও জ্বলে ওঠেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। বক্সের বাইরে থেকে গর্ডনের পাস পেয়ে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন দলকে। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই ধরে রেখে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। আগামী ৬ জুলাই শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে থ্রি লায়নস।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত আরেকটি মাইলফলকও স্পর্শ করেন কেন। বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৩-তে নিয়ে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের ১২ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। এবারের আসরে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচটি। গোলদাতার তালিকায় তিনি আর্লিং হলান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। ছয়টি করে গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

ইংল্যান্ডের এই জয়কে ঘিরেই আবার আলোচনায় এসেছে ঘানার বিতর্কিত তান্ত্রিক নানা কোয়াকু বনসাম। ফুটবল বিশ্বে বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী এবং অতিপ্রাকৃত শক্তির দাবি করে তিনি বহুবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। একসময় হ্যারি কেনকে 'মন্ত্রবলে' আটকে দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে ঘানার একটি ম্যাচের আগে বনসাম দাবি করেছিলেন, 'আমি কেইনের ওপর কার্জ করছি। আমি তার বড় কোনো ইনজুরি চাই না। তবে আমার দেশের বিরুদ্ধে তাকে আটকে রাখার জন্য যতটুকু দরকার, ততটুকুই করব। ঘানাকে জেতাতে আমি আমার কাজ কার্যকর থাকবে।'

এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক আলোচিত দাবিতে বলা হয়, বনসাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—ইংল্যান্ড শুরুতে গোল হজম করলেও শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেনের জোড়া গোলে জয় তুলে নেবে। ম্যাচের ঘটনাপ্রবাহ সেই দাবির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এই ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তির কোনো প্রমাণ নেই।

ইংল্যান্ডের ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এবার আর্জেন্টিনাকে নিয়েও নতুন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বনসাম। তার দাবি, আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৫টায় যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের কাছে হেরে বিদায় নেবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বনসাম বলেন, 'শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে।'

যদিও পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে এখন পর্যন্ত সাতবার খেলেছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে ছয় ম্যাচেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। একমাত্র হারটি এসেছিল ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্যামেরুনের বিপক্ষে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এবারই প্রথম কোনো আফ্রিকান দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবকে নিয়ে কঠিন গ্রুপ পেরিয়ে শেষ ৩২-এ উঠে চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। এবার তাদের লক্ষ্য বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে আরও বড় ইতিহাস গড়া।

এখন দেখার বিষয়, নানা কোয়াকু বনসামের বহুল আলোচিত ভবিষ্যদ্বাণী আবারও বাস্তবে মিলে যায় কি না, নাকি মায়ামির মাঠে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।