আর্জেন্টিনা–কেপ ভার্দে ম্যাচে সেই বিতর্কিত রেফারি ড্রু ফিশার
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন কানাডার রেফারি ড্রু ফিশার। বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা-ফিফা।
৪৫ বছর বয়সী ফিশার আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিচিত নাম হলেও তার ক্যারিয়ারে রয়েছে বিতর্কিত কিছু অধ্যায়। বিশেষ করে ২০২৩ সালের কনকাকাফ নেশনস লিগে মেক্সিকোকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
ক্যালগারিতে জন্ম নেওয়া ফিশার দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার শীর্ষ লিগ মেজর লিগ সকার (এমএলএস)-এ ম্যাচ পরিচালনা করছেন। এমএলএসে এখন পর্যন্ত ২২৯টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ ছাড়া ২০১৫ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি তালিকায় রয়েছেন এই কানাডিয়ান।
তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ২০২৩ সালের কনকাকাফ নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের ম্যাচ। ওই ম্যাচে ফিশার ছিলেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। মূল রেফারি ইভান বার্টন পরে জানান, ভিএআর কক্ষ থেকে তাকে প্রথমে প্রায় ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর আবারও আরও দুই মিনিট যোগ করতে বলা হয়।
সেই অতিরিক্ত সময়ের দশম মিনিটে গোল করে ম্যাচ সমতায় ফেরায় মেক্সিকো। পরে টাইব্রেকারে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে তারা। অতিরিক্ত সময় নিয়ে সেই সিদ্ধান্ত ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। বিতর্ক আরও বাড়ে, যখন কয়েক দিন পর একই টুর্নামেন্টের মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র ফাইনালের রেফারির দায়িত্বও দেওয়া হয় ফিশারকে। যদিও সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ২–০ ব্যবধানে জয় পায়।
আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা অবশ্য তার খুব বেশি নেই। এখন পর্যন্ত মাত্র একবারই আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচে বাঁশি বাজিয়েছেন তিনি। ২০২৪ কোপা আমেরিকার আগে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা অ্যাঞ্জেল দি মারিয়ার একমাত্র গোলে ইকুয়েডরকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়েছিল। পরে লিওনেল স্কালোনির দল সেই কোপা আমেরিকার শিরোপাও জেতে।
এটি ড্রু ফিশারের প্রথম বিশ্বকাপ। এবারের আসরে তিনি ইতোমধ্যে দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। একটি ছিল ফ্রান্সের ৩–০ গোলে ইরাককে হারানোর ম্যাচ, অন্যটি ক্রোয়েশিয়ার ২–১ ব্যবধানে ঘানাকে হারানোর লড়াই, যেখানে সেই জয়ে ক্রোয়াটরা শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। বিতর্কিত অতীত থাকলেও এবার বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে ফিফার আস্থা পেয়েছেন ফিশার।