০১ জুলাই ২০২৬, ১৫:১৯

বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম দৌড়ে সবচেয়ে বেশি গোল মেসির

মেসি   © টিডিসি ফটো

 ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল করার ক্ষেত্রে যেন এক অনন্য নজির গড়ছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে মাঠে সবচেয়ে কম দৌড়ানো আউটফিল্ড খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ম্যাচে গড়ে মাত্র ৮.১ কিলোমিটার দৌড়েই ছয় গোল করেছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটা প্রোফাইলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রুপ পর্বে অন্তত ৯০ মিনিট মাঠে থাকা ৬১৮ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে সবচেয়ে কম দূরত্ব অতিক্রম করেছেন মেসি। প্রতি ৯০ মিনিটে তার গড় দৌড় ৮.১ কিলোমিটার, যা তালিকার সর্বনিম্ন।

গত সপ্তাহে ৩৯ বছরে পা রাখা মেসি আবারও দেখিয়ে দিচ্ছেন, ফুটবলে সাফল্যের জন্য সব সময় সবচেয়ে বেশি দৌড়ানো বা শারীরিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী হওয়াই একমাত্র শর্ত নয়। বরং সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় উপস্থিত হওয়া এবং সুযোগকে কাজে লাগানোর দক্ষতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ছয় গোল করে ২০২৬ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন মেসি। একই সংখ্যক গোল করেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেও। মঙ্গলবার দ্বিতীয় রাউন্ডে নরওয়ের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে মেসির সমতায় পৌঁছান তিনি। অন্যদিকে শুক্রবার দ্বিতীয় রাউন্ডে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

গ্রুপ পর্বে মেসির গোল করার ধারাও ছিল অবিশ্বাস্য। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে দলের তিনটি গোলই করেন তিনি। সেই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৩৫ মিনিটে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।

দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ে পুরো ম্যাচ খেলেন মেসি। অতিরিক্ত সময়ে করা দ্বিতীয় গোলসহ দুটি গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেন তিনি।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল মেসিকে। দ্বিতীয়ার্ধের ১৫তম মিনিটে মাঠে নেমেই গোল করেন তিনি। সেই গোলেই আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৯-এ।

স্টপেজ টাইম বাদ দিলে, গ্রুপ পর্বে মেসি মাঠে ছিলেন মোট ২০০ মিনিট, অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে ৬৬ মিনিট। এই সময়ে ছয় গোল করে তিনি গড়ে প্রতি ৩৩ মিনিটে একটি করে গোল করেছেন। অর্থাৎ সবচেয়ে কম দৌড়েও সবচেয়ে কার্যকর পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপে নিজের অসাধারণ দক্ষতার আরেকটি প্রমাণ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।