নরওয়েকে কখনো হারাতে পারেনি ব্রাজিল
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল। ম্যাচটির আগে পরিসংখ্যান পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। কারণ, আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হলেও একবারও নরওয়েকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল। দুই ম্যাচে জিতেছে নরওয়ে, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে ইতিহাস নিজেদের পক্ষে থাকলেও নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড মনে করেন, ব্রাজিলের বিপক্ষে তাদের কাজ মোটেও সহজ হবে না।
আগামী রবিবার নিউ জার্সিতে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল। এর আগে ইতিহাস বলছে, ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ে অপরাজিত।
এখন পর্যন্ত দুই দলের চারটি দেখার মধ্যে দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে নরওয়ে, আর দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ ব্রাজিল এখনও নরওয়ের বিপক্ষে প্রথম জয়ের অপেক্ষায়।
এই চার ম্যাচের একটি হয়েছিল বিশ্বকাপে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল নরওয়ে। ওই ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোল করেছিলেন বেবেতো। আর নরওয়ের হয়ে গোল করেছিলেন তোরে আন্দ্রে ফ্লো ও কিয়েতিল রেকদাল।
বাকি তিনটি ম্যাচ ছিল প্রীতি ম্যাচ। ১৯৮৮ সালের ২৭ জুলাই প্রথম দেখায় দুই দল ১-১ গোলে ড্র করে। এরপর ১৯৯৭ সালের ২৯ মে নরওয়ে ৪-২ গোলে হারায় ব্রাজিলকে। সবশেষে ২০০৬ সালের ১৬ আগস্ট দুই দল আবারও ১-১ গোলে ড্র করে।
তবে ইতিহাস নিজেদের পক্ষে থাকলেও নরওয়ের সবচেয়ে বড় তারকা আর্লিং হালান্ড বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেখাতে রাজি নন। আইভরি কোস্টকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সংক্ষেপে বলেন, ‘খুবই কম।’
ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে হালান্ড আরও বলেন, ‘শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে হবে। আমাদের সেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতেই হবে, তাই না?’
শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর ডালাস স্টেডিয়ামে নরওয়ের সমর্থকেরা দারুণ উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। খেলোয়াড়েরাও মাঠে বসে মিডফিল্ডার মার্টিন ওদেগারের ঢোলের তালে ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রোয়িং’ উদযাপন করেন।
সমর্থকদের উচ্ছ্বাস নিয়ে হালান্ড বলেন, ‘অবশ্যই নরওয়ের মানুষ এখন দারুণ উচ্ছ্বসিত। আমাদের দল এবং পুরো দেশের এই ঐক্য আমাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো করতে সাহায্য করে।’
তবে নকআউট পর্ব নিয়ে বাস্তববাদী অবস্থানই তুলে ধরেছেন তিনি।
হালান্ড বলেন, ‘এখন আমরা শেষ ষোলোতে খেলব। সেখানে দারুণ সব দল আছে এবং কাজটা সহজ হবে না। পরের ধাপে ওঠা কঠিন হবে। সহজ হবে না। আমরা পারব কি না, সেটাও জানি না। আমরা খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি এবং এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত আছি।’
বর্তমান সময়ে নরওয়ের ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা হালান্ড। বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের একজন তিনি। ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ২৮ বছর পর নরওয়েকে আবার বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনার অন্যতম নায়কও ছিলেন এই স্ট্রাইকার।
১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে নরওয়ে। চলতি আসরেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন হালান্ড। এখন পর্যন্ত পাঁচটি গোল করে তিনি দলের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন।
ইতিহাস নরওয়ের পক্ষে থাকলেও সেই পরিসংখ্যান বদলে প্রথমবারের মতো নরওয়ের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে মাঠে নামবে ব্রাজিল। অন্যদিকে অতীতের অপরাজিত রেকর্ড ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য থাকবে নরওয়ের।