কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় স্বস্তি
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় স্বস্তি ফিরেছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে চোটে জর্জরিত থাকলেও এখন কোচ লিওনেল স্কালোনির হাতে পুরো স্কোয়াডই ফিট। ফলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে সেরা একাদশ বেছে নেওয়াই এখন তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আগামী শুক্রবার মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের আগে মঙ্গলবার কানসাস সিটিতে অনুশীলনে নামেন স্কালোনি। সেখানে তিনি সম্ভাব্য একাদশের কিছু ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত কারা খেলবেন, তা এখনও নিশ্চিত করেননি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে অবশ্য পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১০ জনেরও বেশি খেলোয়াড় পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন না। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে স্কালোনিকে চোটের কারণে একাদশ সাজাতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল। তবে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সেই সংকট কেটে গেছে। এখন তার হাতে সব খেলোয়াড় প্রস্তুত।
কানসাস সিটির কম্পাস মিনারেলস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রথম ১৫ মিনিট সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। এরপর সাংবাদিকদের বাইরে পাঠিয়ে মূল অনুশীলন শুরু করেন স্কালোনি। সেখানেই তিনি সম্ভাব্য প্রথম একাদশ নিয়ে কাজ শুরু করেন।
উন্মুক্ত অনুশীলনে সম্ভাব্য মূল একাদশের খেলোয়াড়দের সবুজ জার্সি পরিয়ে অনুশীলন করালেও পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি তিনি। সম্ভাব্য মূল দলে তিনি ১৩ জন খেলোয়াড়কে রাখেন। এর মধ্যে বাঁ-প্রান্তের ডিফেন্ডার পজিশনের জন্য নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও ফাকুন্দো মেদিনার লড়াই চলছে। একইভাবে আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এখনও শেষ হয়নি।
অনুশীলনের একপর্যায়ে স্কালোনি একটি সম্ভাব্য একাদশ দাঁড় করান। তবে সেটিই যে চূড়ান্ত একাদশ হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এর আগেও অনুশীলনে এক ধরনের দল সাজিয়ে ম্যাচে ভিন্ন একাদশ নামিয়েছেন তিনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা আরও দুটি অনুশীলন করবে। বুধবার কানসাস সিটিতে এবং বৃহস্পতিবার ইন্টার মায়ামির অনুশীলন মাঠে শেষবারের মতো প্রস্তুতি নেবে দলটি।
বৃহস্পতিবার হার্ড রক স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন স্কালোনি ও দলের একজন ফুটবলার। এই স্টেডিয়ামেই ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
গোলরক্ষকের জায়গা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। এমিলিয়ানো মার্তিনেজই থাকছেন প্রথম একাদশে। এই ম্যাচে খেলতে পারলে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছয়টি ক্লিন শিট রাখা সার্জিও রোমেরোর রেকর্ড স্পর্শ করার সুযোগ পাবেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ডান হাতের অনামিকায় থাকা সুরক্ষামূলক স্প্লিন্ট ছাড়াই খেলতে পারেন মার্তিনেজ। প্রথম কয়েকটি ম্যাচে ওই স্প্লিন্টের কারণে গ্লাভস ঠিকভাবে পরতে সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে তিনি কোনো গোল হজম করেননি। শুধু জর্ডানের বিপক্ষে একটি গোল খেয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষ মাত্র দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে, যার মধ্যে মাত্র একবারই তাকে পরাস্ত করা সম্ভব হয়েছে।
রক্ষণভাগেও অনেকটাই পরিষ্কার স্কালোনির পরিকল্পনা। ডান প্রান্তে থাকবেন নাহুয়েল মোলিনা। মাঝখানে খেলবেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। আর বাঁ-প্রান্তে আপাতত কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন ফাকুন্দো মেদিনা।
ডান হাঁটুর চোটের কারণে জর্ডানের বিপক্ষে খেলতে পারেননি ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। এর আগে একই হাঁটুতে মচকানোর চোটে বিশ্বকাপে তার খেলাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। জর্ডানের বিপক্ষে তার জায়গায় খেলেছিলেন নিকোলাস ওতামেন্দি। লিওনেল মেসি না থাকায় ওই ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। তবে রোমেরো পুরোপুরি সুস্থ থাকায় কেপ ভার্দের বিপক্ষে আবারও প্রথম একাদশে ফিরতে যাচ্ছেন।
সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা চলছে বাঁ-প্রান্তের ডিফেন্ডার পজিশনে। ডান পায়ের কাফ মাংসপেশিতে চোট পাওয়ায় প্রথম দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি তাগলিয়াফিকো। সেই সুযোগে প্রথম একাদশে জায়গা পান ফাকুন্দো মেদিনা। আক্রমণে উঠে এসে ভালো পারফরম্যান্সও করেন তিনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাইবে আর্জেন্টিনা। তাই মেদিনার আক্রমণভাগে অবদান তাকে কিছুটা এগিয়ে রাখছে। তবে তাগলিয়াফিকোও এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
মিডফিল্ডে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কোনো অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে রদ্রিগো ডি পল, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজই থাকবেন মাঝমাঠে।
আক্রমণভাগে লিওনেল মেসির জায়গা নিশ্চিত। তার সঙ্গে খেলতে পারেন থিয়াগো আলমাদা ও লাউতারো মার্তিনেজ। জর্ডানের বিপক্ষে লাউতারো বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেন এবং হুলিয়ান আলভারেজের তুলনায় বেশি কার্যকর পারফরম্যান্স দেখান।
তবে হুলিয়ান আলভারেজের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়নি। বিশ্বকাপের আগে শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও এখন তিনি তিনটি ম্যাচেই খেলেছেন। শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন এবং লাউতারোর চেয়ে বেশি সময় খেলেছেন। তাই স্কালোনি চাইলে আবারও তাকে প্রথম একাদশে সুযোগ দিতে পারেন।
কৌশলে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম। একসময় থিয়াগো আলমাদার জায়গায় একজন অতিরিক্ত মিডফিল্ডার খেলানোর আলোচনা থাকলেও কেপ ভার্দে প্রতিপক্ষ হওয়ায় সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে। তবু অনুশীলনের শেষ দিকে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে খেলিয়েছেন স্কালোনি। পাশাপাশি নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও হুলিয়ান আলভারেজও অনুশীলনে সুযোগ পেয়েছেন।
আর্জেন্টিনার দায়িত্বে এটি হবে স্কালোনির ১০০তম ম্যাচ। সেই মাইলফলকের ম্যাচেই বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট লড়াইয়ে নামবে তার দল। কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, চোটের দুশ্চিন্তা এখন অতীত। পুরো স্কোয়াডকে সঙ্গে নিয়েই এখন বিশ্বকাপের আসল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত আর্জেন্টিনা।