০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮

‘মেসিই দলের মূল চাবিকাঠি, দলের জন্য সবাই নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত’

লিসান্দ্রো মার্তিনেজ  © টিডিসি ফটো

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির উপস্থিতিই পুরো দলকে আরও শক্তিশালী করে তোলে বলে মনে করেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তার ভাষায়, মেসি শুধু নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই নয়, নেতৃত্ব ও লড়াকু মানসিকতার মাধ্যমেও পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করেন। আর সেই কারণেই আর্জেন্টিনার প্রতিটি খেলোয়াড় দলের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত থাকে।

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হওয়ার আগে ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসির প্রভাব, নিজের বেড়ে ওঠা এবং আসন্ন ম্যাচ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন জাতীয় দলে নিয়মিত একাদশে জায়গা করে নেওয়া এই সেন্টারব্যাক।

মেসির প্রভাব সম্পর্কে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমাদের জাতীয় দলের মধ্যে দারুণ একটি সংযোগ ও ঐক্য রয়েছে। শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই নয়, সমর্থকরাও সেটা অনুভব করতে পারেন। আর লিওর কথা তো আলাদা। তাকে দলে পাওয়া মানেই আপনি আরও ভালো হয়ে যান, পুরো দলই আরও ভালো হয়ে যায়। তখন খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায় এবং সবাই দলের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত থাকে। সে নিজের কাজের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করে। আপনি যখন তাকে দৌড়াতে, লড়াই করতে দেখেন, তখন সেটি আপনাকেও অনুপ্রাণিত করে।’

নিজের ফুটবল যাত্রার কথাও তুলে ধরেন মার্তিনেজ। আর্জেন্টিনার এন্ত্রে রিওস প্রদেশের গুয়ালেগুয়াই শহরে বেড়ে ওঠা এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘আমি যে জায়গা থেকে উঠে এসেছি, সেটিই আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে বড় একটি কারণ। এজন্য আমি প্রতিদিন কৃতজ্ঞ থাকি এবং সব সময় সেটা মনে রাখার চেষ্টা করি। আমি এই সময়টা উপভোগ করি এবং আমাদের জাতীয় দলের জন্য, আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নিজের সবকিছু উজাড় করে দিই।’

শুক্রবারের শেষ ষোলোর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন না মার্তিনেজ। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ড্র করে আফ্রিকার দলটি নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।

আসন্ন ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি খুব কঠিন একটি ম্যাচ হবে। তাদের দল খুবই গতিময়। তাদের দ্রুতগতির খেলোয়াড় আছে এবং তারা ব্লক তৈরি করে ভালোভাবে রক্ষণ সামলায়। তবে আমাদের নিজেদের শক্তির দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের মনোসংযোগ ধরে রাখতে হবে এবং ম্যাচটি জিততে হবে।’

প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমাদের শান্ত থাকতে হবে এবং বিনয়ী থাকতে হবে। এটা মাথায় রাখতে হবে যে ম্যাচের কিছু সময়ে তারা বলের দখল রাখতে পারে। আর যখন আমাদের সুযোগ আসবে, তখন গোল করতে হবে। এরপর সব সময়ের মতো শক্তভাবে রক্ষণ সামলাতে হবে।’

মাঠে নিজের খেলার ধরন নিয়েও কথা বলেন ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। ইংল্যান্ডে খেলার সময় তার লড়াকু মানসিকতা যেমন প্রশংসা পেয়েছে, তেমনি এবারের বিশ্বকাপেও সেই একই মনোভাব ধরে রেখেছেন তিনি।

মার্তিনেজ বলেন, ‘আমি প্রতিটি বলের জন্য এমনভাবে লড়াই করি, যেন সেটিই ম্যাচের শেষ বল। আমি সেটাই সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই। আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই এবং চাই সমর্থকেরা অনুভব করুক, আমি তাদের প্রতিনিধিত্ব করছি।’