মরক্কোর কাছে হেরে পদত্যাগ করলেন নেদারল্যান্ডসের কোচ কোমান
মরক্কোর বিপক্ষে রাউন্ড অফ ৩২তে টাইব্রেকারে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার এক দিনেরও কম সময়ের মধ্যে নেদারল্যান্ডস জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন রোনাল্ড কোমান। নেদারল্যান্ডস ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। এর মধ্য দিয়ে ডাচ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদের ইতি ঘটল।
মরক্কোর বিপক্ষে নাটকীয় বিদায়ের পরপরই কোমান নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রথমে আমাকে সবকিছু নিয়ে ভাবতে হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেব।’ সেই বক্তব্য যে আবেগের বশে দেওয়া ছিল না, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়। ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন।
নেদারল্যান্ডস ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে কোমান বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হচ্ছে যে ডাচ জাতীয় দলের সঙ্গে আমার সময়টা এভাবে শেষ হলো। আমরা সবাই এমন একটি বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখেছিলাম, যেখানে আমরা ইতিহাস গড়ব। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি। এই ব্যর্থতায় আমার চেয়ে বেশি হতাশ আর কেউ নয়। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এই দায়িত্ব আমারই। আমি সব সময় এই দায়িত্ব অনুভব করেছি এবং ভবিষ্যতেও তা অনুভব করব।’
এর আগে ইউরো ২০২১ শুরুর আগে বার্সেলোনার কোচ হওয়ার জন্য নেদারল্যান্ডসের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন কোমান। পরে কাতার বিশ্বকাপ শেষে লুই ফন গালের বিদায়ের পর আবারও জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন তিনি। তার বিশ্বাস ছিল, ডাচ দলের সঙ্গে তার একটি অসমাপ্ত অধ্যায় রয়ে গেছে। সেই লক্ষ্য নিয়েই দ্বিতীয় দফায় কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে নেদারল্যান্ডসকে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল এনে দেন কোমান। তার দল সেমিফাইনালে উঠে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয়। সেই পারফরম্যান্সের পর বিশ্বকাপেও নেদারল্যান্ডসকে সম্ভাবনাময় দল হিসেবে দেখা হচ্ছিল। যদিও শিরোপার প্রধান দাবিদারদের তালিকায় তাদের রাখা হয়নি, তবু দলটি ভালো কিছু করতে পারবে বলেই ধারণা ছিল ফুটবল বিশ্লেষকদের।
তবে বিশ্বকাপের শুরুটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। প্রথম ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ড্র করার পর কোমানের কৌশল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে দলকে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মকভাবে খেলানোর সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়ে। এরপর তিনি দলে পরিবর্তন আনেন। ব্রায়ান ব্রবি-কে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলিয়ে ডোনিয়েল মালেনকে উইংয়ে সরিয়ে দেন। সেই পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাবও দেখা যায়।
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষেও নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামেন কোমান। তিনি একসঙ্গে ছয়জন ডিফেন্ডার খেলান এবং আবারও সামারভিলের ওপর আস্থা রাখেন। ম্যাচের শেষ দিকে কোডি গাকপোর গোলে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে গেলে তার পরিকল্পনা সফল বলেই মনে হচ্ছিল।