নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’: ভাইরাল এই উদযাপনের নেপথ্যে কি
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স যেমন আলোচনায়, তেমনি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছে দেশটির সমর্থকদের অভিনব উদযাপন ‘ভাইকিং রো’। মাঠে, গ্যালারিতে, এমনকি নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে শুরু করে নরওয়ের পার্লামেন্ট পর্যন্ত—একই ছন্দে বৈঠা চালানোর ভঙ্গিতে ‘রো! রো!’ ধ্বনি এখন ফুটবল বিশ্বের নতুন আকর্ষণ।
‘ভাইকিং রো’ মূলত নরওয়ের প্রাচীন ভাইকিং ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত একটি সমর্থক-উদযাপন। সমর্থকেরা সারিবদ্ধভাবে বসে বা নিচু হয়ে কল্পিত বৈঠা হাতে নৌকা বাইবার ভঙ্গি করেন। ড্রামের তালে তালে সবাই একসঙ্গে ‘Ro! Ro! Ro!’ (নরওয়েজিয়ান ভাষায় Ro অর্থ বৈঠা চালাও/Row) বলে স্লোগান দেন। ধীরে শুরু হওয়া এই ছন্দ ক্রমেই দ্রুত হয়, যেন যুদ্ধের আগে তীরে ভিড়ছে একটি ভাইকিং লংশিপ।
এই উদযাপনের রূপকার নরওয়ের জাতীয় দলের অফিসিয়াল সমর্থকগোষ্ঠী Oljeberget-এর সদস্য ওলে ফ্রয়স্টাদ। ২০২৫ সালে তিনি এই কোরিওগ্রাফি তৈরি করেন। তার ভাবনা ছিল এমন একটি স্লোগান তৈরি করা, যা নরওয়ের ইতিহাস, সমুদ্রযাত্রা ও দলীয় ঐক্যের প্রতীক হবে। পরবর্তীতে একটি প্রীতি ম্যাচে প্রথমবার এটি ব্যবহার করা হয় এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে তা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পায়।
ইতিহাস অনুযায়ী, ভাইকিং যোদ্ধারা যুদ্ধের আগে লংশিপ থেকে বৈঠা চালিয়ে তীরে পৌঁছাতেন। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রতীক হিসেবেই ‘ভাইকিং রো’-তে বৈঠা চালানোর অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়—দল ও সমর্থকেরা একসঙ্গে একই লক্ষ্য অর্জনের জন্য এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপে নরওয়ের দীর্ঘ ২৮ বছর পর প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে এই উদযাপন যেন নতুন পরিচয় তৈরি করেছে। আর্লিং হলান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডসহ খেলোয়াড়রাও ম্যাচ শেষে সমর্থকদের সঙ্গে ‘ভাইকিং রো’-তে অংশ নেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। টাইমস স্কয়ার, বস্টনের রাস্তাঘাট, মেট্রো স্টেশন, এমনকি নরওয়ের সংসদ ভবনেও এই উদযাপন দেখা গেছে।
যদিও নরওয়ের সমর্থকদের মতে, ‘ভাইকিং রো’ কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি ঐক্য, সাহস এবং দলগত শক্তির প্রতীক। সবাই একই ছন্দে ‘বৈঠা’ চালিয়ে যেন দলকে বিজয়ের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আইসল্যান্ডের বিখ্যাত ‘ভাইকিং ক্ল্যাপ’-এর পর উত্তর ইউরোপের ফুটবল সংস্কৃতিতে এটি আরেকটি অনন্য সংযোজন।
নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযান যত এগিয়েছে, ‘ভাইকিং রো’ও তত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক নিরপেক্ষ সমর্থকও এই উদযাপনে যোগ দিচ্ছেন। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি এখন শুধু নরওয়ের পরিচয় নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় সমর্থক-সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।