নাটকীয় ম্যাচে পেনাল্টিতে নেদারল্যান্ডসকে হারাল মরক্কো
১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়েও মেলেনি সমাধান। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো। মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটেই ভাগ্য নির্ধারণ হয় দুই দলের।
নকআউট পর্বের অন্যতম জমজমাট এই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের ৭২তম মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার নিখুঁত শটে এগিয়ে যায় ডাচরা। সেই গোল ধরে রেখেই শেষ ষোলোর পথে এগোচ্ছিল তারা।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের যোগ করা ৯১তম মিনিটে ম্যাচে ফিরে আসে মরক্কো। দুর্দান্ত এক গোলে সমতা ফেরান ইসা দিয়প। বিশ্বকাপে এটি ছিল মরক্কোর জার্সিতে তার প্রথম গোল, আর সেটিই ডাচদের স্বপ্ন ভেঙে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়।
এর আগে প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের দেখা পায়নি। বল দখলে সমান লড়াই হলেও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল মরক্কো। তারা চারটি শট নেয়, যার দুটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস তিনটি শট নিলেও কোনোটি কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেনি।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিটেও কোনো দল ব্যবধান গড়তে পারেনি। তবে মরক্কোই তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। একপর্যায়ে সুফিয়ান রাহিমির জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেন।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও গোলের দেখা মেলেনি। ফলে ম্যাচের নিষ্পত্তি গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারের শুরুটা ভালো করে নেদারল্যান্ডস। প্রথম শটে টেউন কুপমেইনার্স গোল করেন। তবে মরক্কোর প্রথম শটে এল আয়নাউয়ি গোল করতে ব্যর্থ হন।
দ্বিতীয় শটে বড় সুযোগ নষ্ট করে নেদারল্যান্ডস। জাস্টিন ক্লুইভার্টের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর মরক্কোর হয়ে সুফিয়ান রাহিমি গোল করে সমতা ফেরান।
তৃতীয় শটে ওয়াউট ভেগহর্স্ট গোল করে আবারও এগিয়ে দেন নেদারল্যান্ডসকে। জবাবে মরক্কোর হয়ে সফল হন শেমসদিন তালবি।
চতুর্থ শটে কুইন্টেন টিম্বারের শট পোস্টের বাইরে চলে যায়। তবে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি মরক্কোর আশরাফ হাকিমিও। তার শট থেকেও গোল আসেনি।
সবকিছু নির্ভর করে শেষ শটের ওপর। নেদারল্যান্ডসের হয়ে ক্রিসেনসিও সামারভিলের নেওয়া শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। এরপর শেষ শটে ইসমাইল সাইবারি গোল করেই মরক্কোকে শেষ ষোলোয় তুলে দেন।
রুদ্ধশ্বাস এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ সামলাতে ব্যর্থ হয় নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে দুর্দান্ত লড়াই, শেষ মুহূর্তের সমতাসূচক গোল এবং টাইব্রেকারে দারুণ স্থিরতা দেখিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে মরক্কো। জার্মানির পর আরেক ইউরোপীয় শক্তিকে বিদায় করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা জানিয়ে দিল, এবারও তারা বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন নিয়েই এগোচ্ছে।