৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩

সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে মাঠে নেমে গোল করলেন কোডি গাকপো

কোডি গাকপো   © টিডিসি ফটো

ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করলেন কোডি গাকপো। সম্প্রতি নবজাতক সন্তান হারানোর বেদনা নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন ডাচ ফরোয়ার্ড। সেই তিনিই করলেন ম্যাচের একমাত্র গোল। তার গোলে ১-০ এগিয়ে রয়েছে নেদারল্যান্ডস।

মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর এই লড়াইয়ে দীর্ঘ সময় কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৭২তম মিনিটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের বাড়ানো বল থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে ইয়াসিন বুনুকে পরাস্ত করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন গাকপো। গোলের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। মাঠেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন। সতীর্থরা তাকে ঘিরে উদযাপন করেন, আর গ্যালারিতে উল্লাসে মেতে ওঠেন ডাচ সমর্থকেরা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো শুরু থেকেই নেদারল্যান্ডসকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে। প্রথমার্ধে দুই দলই সমানতালে লড়াই করলেও গোলের দেখা পায়নি কেউ।

প্রথম ৪৫ মিনিটে বল দখলের লড়াই ছিল প্রায় সমান সমান। তবে শট নেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল মরক্কো। আফ্রিকার দলটি চারটি শট নেয়, যার দুটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস তিনটি শট নিলেও কোনোটি গোলে রূপ দিতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের গতি বাড়ায় মরক্কো। ৪৭তম মিনিটে ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন ইসা দিয়প।

৪৯তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির পাস থেকে আয়ুব বুয়াদ্দি বক্সের সামনে থেকে বাঁ পায়ের শট নিলেও বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

৫২তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি তৈরি করেন হাকিমি। আজেদ্দিন উনাহির বাড়ানো বল ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কঠিন কোণ থেকে শট নেন তিনি। তবে নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেনকে পরাস্ত করতে পারেননি। বল গিয়ে লাগে গোলপোস্টে।

৫৮তম মিনিটে এল খান্নুস দূরপাল্লার শট নিলে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি রুখে দেন ফেরব্রুগেন।

৬২তম মিনিটে টানা চারটি কর্নার আদায় করে নেয় মরক্কো। প্রথম কর্নারটি ঘুষি মেরে বিপদমুক্ত করেন ফেরব্রুগেন। দ্বিতীয় কর্নারে আশরাফ হাকিমির নেওয়া বল ক্লিয়ার করেন ডেনজেল ডামফ্রিস। তৃতীয় কর্নারেও একইভাবে রক্ষণ সামাল দেয় ডাচরা। চতুর্থ কর্নারটি অনেক দূরে চলে গিয়ে মাঠের বাইরে বেরিয়ে যায়।

মরক্কোর একের পর এক আক্রমণের মধ্যেও নিজেদের রক্ষণ শক্ত রাখে নেদারল্যান্ডস। ৬৮তম মিনিটে কুলিং ব্রেকের পর আবারও জমে ওঠে ম্যাচ।

৭১তম মিনিটে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন আনে নেদারল্যান্ডস। ব্রায়ান ব্রোবির জায়গায় মাঠে নামেন ওয়াউট ভেগহর্স্ট এবং নাথান আকের পরিবর্তে নামেন টেউন কুপমেইনার্স।

পরের মিনিটেই আসে ম্যাচের নিষ্পত্তি। সামারভিলের পাস থেকে গাকপো গোল করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন। সম্প্রতি নিজের নবজাতক সন্তানকে হারানোর শোক বহন করেই মাঠে নেমেছিলেন তিনি। তাই গোল করার পর তার আবেগঘন উদযাপন মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার জন্য একের পর এক পরিবর্তন আনে মরক্কো। ৭৫তম মিনিটে চোট পাওয়া শাদি রিয়াদের জায়গায় মাঠে নামেন আনাস সালাহ-এদ্দিন।

৭৯তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের পরিবর্তে খেলতে নামেন গেসিমে ইয়াসিন। একই সময়ে আয়ুব বুয়াদ্দির জায়গায় নামেন সামির এল মুরাবেত।

শেষ ১০ মিনিটে মরক্কো সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ চালায়। তারা নেদারল্যান্ডসের রক্ষণভাগে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করলেও ডাচ ডিফেন্ডাররা কোনো সুযোগ দেয়নি।