প্যারাগুয়ের সঙ্গে হেরেই চাকরি খোয়াচ্ছেন জার্মান কোচ?
ফুটবল আসলেই এক পরম অনিশ্চয়তার খেলা, যার চিত্রনাট্য কোনো অতিপ্রাকৃতিক লেখক ছাড়া আর কারও পক্ষে লেখা সম্ভব নয়। চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষে যারা প্যারাগুয়ে বা জার্মানির এই পরিণতি নিয়ে বাজি ধরেছিলেন, তাদের নির্ঘাত উন্মাদ ভাবত সবাই।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল প্যারাগুয়ে। সেই দুই মেরুর দুটি দল যখন রাউন্ড অব ৩২-এ মুখোমুখি হলো, তখন মাঠের লড়াই ও ম্যাচের ফলাফল পুরো ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিল।
ম্যাচ শেষে জার্মানির ডাগআউটে ক্ষোভ আর হতাশার আগুন জ্বলবে এটাই স্বাভাবিক। অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান তাহের বাতিল হওয়া গোলটি নিয়ে তারা নিশ্চিতভাবেই ম্যাচ অফিশিয়ালদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। কিন্তু বিতর্ক এক পাশে সরিয়ে রাখলে, প্যারাগুয়ের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের সামনে জার্মানির আক্রমণভাগে আজ সৃজনশীলতার চরম অভাব ছিল।
এই চরম বিপর্যয়ের পর ফুটবল বোদ্ধাদের সব তির এখন জার্মানি কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দিকে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁর করা বদলি খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্তগুলো ফুটবল বিশ্লেষকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মাঠের কৌশল দেখে মনে হচ্ছিল, কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই হুটহাট সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন তিনি, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হলো টাইব্রেকারে বিদায় নিয়ে।
১২ বছর পর নকআউটে ফিরে প্রথম ম্যাচেই এমন লজ্জাজনক বিদায়ের পর নাগেলসম্যানের চাকরি এখন সুতোয় ঝুলছে। জার্মানি ফুটবল ফেডারেশন এই মহাবিপর্যয় সহজে মেনে নেবে না, তা বলাই বাহুল্য। আর সব আলো কেড়ে নিয়ে কুরাসাও ম্যাচের সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে আজ জার্মানিকে বিদায় করে উল্লাসে ভাসছে লাতিন আমেরিকার লড়াকু দল প্যারাগুয়ে।