টানা ৪ বার অতিরিক্ত সময়ে নকআউট পর্ব থেকে জাপানের বিদায়
ফুটবল মাঝে মাঝে কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ বোধহয় এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। হিউস্টনে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পরও শেষ মুহূর্তের (৯০+৬ মিনিট) গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো ব্লু সামুরাইদের। এই হারের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের ঐতিহাসিক আক্ষেপ ও ‘নকআউট জুজু’ আরও দীর্ঘায়িত হলো।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে জাপানের এই বিদায়কে স্রেফ দুর্ভাগ্য বললে ভুল হবে, এটি তাদের জন্য এক দীর্ঘমেয়াদি ট্র্যাজেডি। বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ৫টি নকআউট ম্যাচ খেলে ৫টিতেই হেরেছে জাপান। তবে সবচেয়ে নির্মম বিষয় হলো, প্রথমবার ২০০২ সালে তুরস্কের কাছে নির্ধারিত সময়ে ১-০ গোলে হারার পর, শেষ টানা ৪টি নকআউট ম্যাচেই তারা বিদায় নিয়েছে হয় অতিরিক্ত সময়ের ইনজুরি টাইমে, না হয় পেনাল্টি শুটআউটের ভাগ্যপরীক্ষায়।
২০১০ সালের রাউন্ড অব ১৬-তে প্যারাগুয়ের সাথে গোলশূন্য ড্রয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ ব্যবধানে হারে জাপান। এরপর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করেও ৯০+৪ মিনিটের ইনজুরি টাইমের গোলে ৩-২ ব্যবধানে হৃদয়ভঙ্গ হয় তাদের। গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও ক্রোয়েশিয়ার সাথে ১-১ গোলে টাই থাকার পর আবারও সেই পেনাল্টি শুটআউটে ৩-১ ব্যবধানে ছিটকে যায় তারা। আর এবার ২০২৬ সালের নতুন সংস্করণের রাউন্ড অব ৩২-এর মঞ্চে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের ৯০+৬ মিনিটে গোল খেয়ে ২-১ ব্যবধানে বিদায় নিতে হলো দলটিকে।
হিউস্টনের মাঠে আজ ম্যাচের প্রথমার্ধে সম্পূর্ণ আধিপত্য ছিল জাপানের। ম্যাচের শুরুতে কাইশু সানোর দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় আন্ডারডগরা। প্রথমার্ধে ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে পুরোপুরি বোতলবন্দী করে রেখেছিল জাপানি রক্ষণব্যূহ।
তবে বিরতির পর গল্পটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। দ্বিতীয় হাফে মাঠে যেন অন্য এক ব্রাজিল হাজির হয়। সেলেসাওদের অনবরত হাই-প্রেসিং ফুটবল আর আক্রমণের ঝড়ে ব্যাকফুটে চলে যায় জাপান। ক্লান্ত ডিফেন্সের সুযোগ নিয়ে ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর বুলেট হেডারে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর ভিনিসিয়ুসের একটি জাদুকরী শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে নিশ্চিত রক্ষা পায় জাপান। জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকি পুরো ম্যাচে অতিমানবীয় কিছু সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন।
কিন্তু ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, যখন খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই ব্রুনো গিমারায়েসের পাস থেকে আর্সেনাল তারকা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির নিখুঁত ফিনিশিং জাপানের সব স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেয়।
জাপানকে বিদায় করে শেষ ১৬ নিশ্চিত করলেও ব্রাজিলের ডাগআউটে কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে দেখা গেছে চিরচেনা শান্ত ও আবেগহীন অবয়বে। এই স্বস্তির জয়ের পর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবার পাড়ি জমাবে নিউ ইয়র্কে। আগামী ৫ জুলাই নিউ ইয়র্কের মাঠে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ে-এর মধ্যে যেকোনো এক দল।