আনচেলত্তির চিরচেনা পাথর-মুখ, জাপানি শিবিরে কান্নার রোল
রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর হিউস্টনের মাঠ যখন হলুদ জার্সির উন্মাদনায় ভাসছে, ঠিক তখনই ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ল ফুটবলের দুটি চিরন্তন অথচ সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। একদিকে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করার স্বস্তি, অন্যদিকে অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের পর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার নির্মম বাস্তবতা।
ব্রাজিল বেঞ্চ যখন মাঠে দৌড়ে গিয়ে মার্টিনেল্লিকে নিয়ে উদযাপনে ব্যস্ত, ডাগআউটে তখন কার্লো আনচেলত্তি একদম শান্ত, অবিচল। কোনো বাড়তি আবেগ বা উল্লাসের লেশমাত্র নেই তাঁর চোখেমুখে। চিরচেনা সেই ডান ভ্রু কিছুটা কুঁচকে ডাগআউট ছাড়লেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। অভিজ্ঞ এই ডন খুব ভালো করেই জানেন, নকআউটের প্রথম বাধা পার হওয়া গেছে ঠিকই, কিন্তু হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ) জয়ের মিশন এখনো বহুদূর। দলের রক্ষণের যে দুর্বলতা আজ ফুটে উঠেছে, তা নিয়ে সামনে আরও প্রচুর কাজ বাকি—আনচেলত্তির এই ভাবলেশহীন অভিব্যক্তি যেন তারই আগাম বার্তা।
ঠিক তার কয়েক গজ দূরেই তখন তৈরি হচ্ছিল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। রূপকথার খুব কাছে গিয়েও যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তের এই ট্র্যাজেডি যেন নিতে পারছিলেন না ব্লু সামুরাইরা। রাউন্ড অব ৩২-এর এই মঞ্চ থেকে এমন নাটকীয়ভাবে ছিটকে যাওয়ার পর জাপানি খেলোয়াড়রা মাঠের ওপরই ভেঙে পড়েন। পুরো ম্যাচ জুড়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করা ফুটবলারদের বেশ কয়েকজনকে মাঠেই অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা জানা ছিল না কারও। এশিয়ান পরাশক্তিদের এই কান্না প্রমাণ করে, ফুটবল কতটা সুন্দর, আর একই সাথে কতটা নিষ্ঠুর!