শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল
হিউস্টনে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে জাপানের একাধিক খেলোয়াড়কে ভেঙে পড়তে দেখা যায়, আর অন্যদিকে সেলেসাওদের উদযাপনে ভেসে যায় স্টেডিয়াম।
প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল জাপান। ২৯তম মিনিটে কাইশু সানোর গোলে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় তারা, যেখানে ব্রাজিল কিছুটা নিষ্প্রভি ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারায় ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে ৫৬তম মিনিটে কাসেমিরোর ব্যাক পোস্ট হেডে সমতায় ফেরে তারা।
এরপর ম্যাচের একেবারে গভীর স্টপেজ টাইমে বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি নায়ক বনে যান। ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত পাসে দারুণ ফিনিশিংয়ে তিনি নিশ্চিত করেন ব্রাজিলের অবিশ্বাস্য জয়। এই জয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে আইভরি কোস্ট বা নরওয়ে।
দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেন ব্রুনো গিমারায়েস। তবে তার নিচু শট জাপানের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হয়ে যায়। দুই মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বিপজ্জনক এলাকায় ঢুকে পড়লেও দ্রুত বেরিয়ে এসে বল মুষ্টিবদ্ধ করে বিপদ কাটান জাপানের গোলরক্ষক।
শুরুর চাপ ধরে রেখে ১৪তম মিনিটে আবারও সুযোগ পায় সেলেসাওরা। এবার ম্যাথেউস কুনিয়ার ডান পায়ের নিচু শট অল্পের জন্য পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। এক মিনিট পর জুনিয়া ইতোকে বক্সের সামনে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন কাসেমিরো। সেই ফ্রি-কিক থেকে জাপান সুযোগ তৈরি করলেও ব্রাজিলের রক্ষণে লেগে বল কর্নারে পরিণত হয়।
আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা না পাওয়া ব্রাজিলকে ২৯তম মিনিটে শাস্তি দেয় জাপান। দানিলোর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত দৌড় শুরু করেন কাইশু সানো। কাসেমিরো তাকে অনুসরণ করলেও থামাতে পারেননি। প্রায় ৩০ গজ বল নিয়ে এগিয়ে বক্সের সামনে থেকে জোরালো নিচু শটে আলিসন বেকারকে পরাস্ত করেন জাপানের এই মিডফিল্ডার।
জার্মান ক্লাব মেইঞ্জে খেলা সানোর এটি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। তার এই দুর্দান্ত গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে জাপান।
বিরতির পর বেশিক্ষণ আর ম্যাচে লিড ধরে রাখতে পারেনি জাপান। ৫৬তম মিনিটে কাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
যদিও আক্রমণের শুরুটা আসে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছ থেকে। তার ব্যাক পাসের পর গাব্রিয়েল বক্সের সামনে থেকে ক্রস দেন, আর গোলমুখে নিখুঁত টাইমিংয়ে উঠে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন কাসেমিরো।
সমতায় ফেরার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। শেষ দিকের টানা ১০ মিনিটে জাপানের রক্ষণে প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন কাসেমিরো, এন্দ্রিক ও ভিনিসিয়ুসরা। ৬০ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের এক দুর্দান্ত শট জাপানি গোলরক্ষকের হাতে লেগে পোস্টে লাগে, এমনটি না হলে এটিই হতে পারত বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল।
মাঝে ছন্দ হারালেও শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলই ম্যাচ জিতে নেয়। রায়ান বিপজ্জনক এলাকায় বল কেড়ে নিয়ে ব্রুনো গিমারায়েসকে পাস দেন। গিমারায়েস নিখুঁত থ্রু পাসে খুঁজে নেন বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিকে।
সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিচু শটে গোল করেন মার্টিনেল্লি, সেই গোলে ভেঙে যায় জাপানের হৃদয়, আর নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের শেষ ষোলো।
পরবর্তী রাউন্ডে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের মধ্যকার বিজয়ী দল। ম্যাচটি মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।