কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র
ব্রাজিলের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই—সবকিছুর মাঝেও এক আবেগঘন মুহূর্তে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না ভিনিসিয়াস জুনিয়র। শৈশবের সবচেয়ে বড় আশ্রয় তার দাদি নিলজাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়েন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের প্রত্যয় এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
ব্রাজিলের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান 'ডোমিঙ্গাও কম হাক'-এ অংশ নিয়ে জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন ভিনিসিয়াস। অনুষ্ঠানে তার দাদি নিলজার একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করা হলে আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি। ছোটবেলা থেকে দাদিই তাকে আগলে রেখেছেন, তার বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে ছিলেন সবচেয়ে কাছের মানুষ।
চোখের জল আটকে রাখতে না পেরে ভিনিসিয়াস বলেন, ‘তিনি একজন অত্যন্ত বিশেষ মানুষ, কারণ আমার বাবা সবসময় দূরে থাকতেন, তাই আমি আমার মা, ভাইবোন এবং দিদিমার সাথে বড় হয়েছি।’
দাদির সঙ্গে কাটানো শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িটা ছোট ছিল, আর আমি তাঁর সাথে অসংখ্য রাত ঘুমিয়েছি। আমি বাকরুদ্ধ। তিনি আমার জীবনকে গড়ে তুলেছেন। আমি জানি যে এমন একটা সময় আসবে যখন মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, তাই আমি তাঁর সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তকে লালন করি।’
এই আবেগঘন মুহূর্ত সাক্ষাৎকারের পরিবেশই বদলে দেয়। নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবারের ত্যাগের কথা স্মরণ করে ভিনিসিয়াস বলেন, ‘আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য তারা সম্ভাব্য সবকিছুই করেছে। তাকে খুশি দেখাটা অমূল্য।’
তবে শুধু ব্যক্তিগত আবেগ নয়, বর্তমান ব্রাজিল দল নিয়েও আশাবাদী এই উইঙ্গার। তিন ম্যাচে চার গোল করে দলের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেওয়া ভিনিসিয়াস মনে করেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের সময় এসেছে।
তিনি বলেন, ‘এই প্রজন্ম ব্রাজিলকে আবার শীর্ষে ফিরিয়ে আনতে কঠোর লড়াই করছে। ষষ্ঠ তারকা পেতে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। এই গত কয়েক বছরে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।’
বর্তমান ব্রাজিল দলের পরিবর্তনের পেছনে কোচ কার্লো আনচেলোত্তির ভূমিকাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গড়া এই দলকে নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছেন ইতালিয়ান এই কোচ।
ভিনিসিয়াস বলেন, ‘অনেক খেলোয়াড় গত কোপা আমেরিকায় অংশ নিয়েছিল। আনচেলোত্তি আমাদের স্বাধীনতা, মানসিক শান্তি এবং শীর্ষে ফেরার আশা দেন। নেইমার, ক্যাসিমিরো, অ্যালেক্স সান্দ্রো, দানিলো এবং মার্কুইনহোসের মতো অত্যন্ত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি আমাদের অনেক মানসিক শান্তি দেয়, যার ফলে তরুণ খেলোয়াড়রা জায়গা পায়। আমার বয়স মাত্র ২৫, কিন্তু এন্ড্রিক, রায়ানের মতো একটি খুব ভালো প্রজন্ম উঠে আসছে...’
সাক্ষাৎকারে ফুটবলের বাইরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই নিয়েও কথা বলেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং 'ভিনি আইন'-এর মতো উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভিনিসিয়াস বলেন, ‘মাঠের বাইরের এই বিজয়গুলো মাঠের ভেতরের বিজয়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এভাবে আমি আরও অনেক বেশি মানুষকে সাহায্য করতে পারি। এটা সত্যি যে অগ্রগতি ধীর, কিন্তু আমি আশা করি এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে, যাতে পরবর্তী প্রজন্মকে একই রকম কষ্ট ভোগ করতে না হয়। আমার সাত বছরের একটি ভাই আছে, এবং আমি আশা করি তাকে যেন কখনো বর্ণবাদের শিকার হতে না হয়। আমি মাঠে দুর্দান্ত কিছু করতে চাই, কিন্তু একই সাথে সেইসব তরুণ কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদেরও অনুপ্রাণিত করে যেতে চাই যাদের আমার মতো কণ্ঠস্বর নেই।’