২৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৮

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের হয়ে মাঠে নামতে পারতেন রোনালদো!

রোনালদো   © সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে এবার আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির দল মাঠে নামলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভক্তরা সাধারণত তাদের পরাজয়ই কামনা করেন, যা ফুটবল বিশ্বের চেনা সমীকরণ। তবে আর্জেন্টিনার এই ম্যাচটিকে ঘিরে এবার রোনালদো ভক্তদের মনে যোগ হয়েছে এক ভিন্ন মাত্রার আবেগ। কারণ, ফুটবল মাঠের বৈরিতা ছাপিয়ে এই ম্যাচের নেপথ্যে জড়িয়ে আছে খোদ রোনালদোরই পারিবারিক শিকড় এবং ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য ‘যদি’ ও ‘কিন্তু’র গল্প।

​ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে কেপ ভার্দের সঙ্গে পর্তুগালের সম্পর্ক বেশ পুরোনো। আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি দীর্ঘদিন পর্তুগিজ উপনিবেশ ছিল। পরবর্তীতে দাস প্রথা নিষিদ্ধ হওয়ার পর পর্তুগিজরা সেখান থেকে চলে যায়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র খরা ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কেপ ভার্দের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বেঁচে থাকার তাগিদে এবং উন্নত জীবনের আশায় দেশটির বহু মানুষ পর্তুগালসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পাড়ি জমাতে বাধ্য হন।

​ইতিহাসের সেই অভিবাসী স্রোতের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে ফুটবল ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের গল্প। কেপ ভার্দে ছেড়ে আসা সেই মানুষদেরই একজন ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রমাতামহী (বাবার দাদি) ইসাবেল দা পিয়েদাদে। তিনি কেপ ভার্দের সাও ভিসেন্তে দ্বীপ থেকে অভিবাসী হয়ে পর্তুগালের মাদিরাতে এসে বসতি স্থাপন করেন, যেখানে পরবর্তীতে জন্ম নেন রোনালদোর বাবা জোসে ডিনিস আভেইরো।

​আজকের ফুটবল বিশ্ব সিআরসেভেনকে পর্তুগালের জার্সিতে চেনে। কিন্তু ইতিহাসের চাকা যদি সেদিন একটু ভিন্নভাবে ঘুরত এবং রোনালদোর পূর্বসূরিরা যদি কেপ ভার্দেই থেকে যেতেন, তবে হয়তো পর্তুগাল নয়, আফ্রিকার এই দেশটির হয়েই মাঠ কাঁপাতেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকা।

​স্বভাবতই, বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ যখন সেই কেপ ভার্দে আলবিসেলেস্তেদের রুখে দেওয়ার মিশনে নামছে, তখন রোনালদো ভক্তদের প্রার্থনা কেবল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নয়, বরং তা পরোক্ষভাবে যেন রূপ নিয়েছে নিজেদের প্রিয় তারকার নাড়ির টান ও ঐতিহাসিক শিকড়কে সমর্থনের এক অদ্ভুত গল্পে।