ব্রাজিল ম্যাচের আগে জাপানের বড় চিন্তা একটাই
১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় জাপান। এরপর থেকে টানা প্রতিটি আসরেই জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি। এই পথচলায় তারা উপহার দিয়েছে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত, ২০০২ সালে নিজেদের মাটিতে রাশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয়, চারবার শেষ ষোলোয় ওঠা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলকে চমকে দেওয়া।
তবে জাপানি ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি অপেক্ষা করছে এবার। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আগামী সোমবার (২৯ জুন) হিউস্টনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে তারা। বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে পারলে সেটি নিঃসন্দেহে জাপানের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হয়ে থাকবে।
নকআউট পর্বের ম্যাচ এমনিতেই বাড়তি চাপের। তার ওপর প্রতিপক্ষ যখন ব্রাজিল, তখন চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিল আগের মতো অপ্রতিরোধ্য না হলেও তাদের অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ দল এবং বিশ্বকাপের ঐতিহ্য এখনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় মানসিক চাপ তৈরি করে।
তবে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি জাপানের শিবিরে রয়েছে বড় দুশ্চিন্তা। সেটি হলো এগিয়ে যাওয়ার পর খুব দ্রুত গোল হজম করার প্রবণতা। গ্রুপ পর্বে সুইডেনের বিপক্ষে দাইজেন মায়েদার গোলে ৫৬ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু মাত্র ৬ মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরে সুইডেন।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও দেখা গেছে একই চিত্র। ৫৭ মিনিটে সমতা ফেরানোর পর মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যে আবার গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে জাপান। যদিও শেষ দিকে গোল করে নাটকীয়ভাবে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন ভুলের সুযোগ খুব কমই থাকবে। তাই নকআউটের এই মহারণে নিজেদের রক্ষণ আরও দৃঢ় করা এবং লিড ধরে রাখার সক্ষমতাই হতে পারে জাপানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সুইডেন ম্যাচের পর হিউস্টনে পৌঁছে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনেইয়াসু মিয়ামোতো স্বীকার করেছেন বিষয়টি। তার ভাষ্যমতে, ‘গোল করার ঠিক পরপরই আমরা প্রায়ই গোল হজম করে বসছি। এই জায়গাটাতে আমাদের আরও অনেক কাজ করার আছে। এই ধরনের পরিস্থিতিগুলো আমাদের দ্রুত শুধরে নিতে হবে।’