নাটকীয় ড্রয়ে ইরানকে বিদায় করে নকআউটে আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া
দুই দিনে পরপর দু'বার বড় ধাক্কা খেল ইরান। প্রথমে অফসাইডের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল বাতিল হয়ে যাওয়ায় স্বপ্নভঙ্গের হতাশা, আর পরদিন শেষ মুহূর্তে অস্ট্রিয়ার গোলেই আবারও ভেঙে গেল তাদের নকআউট পর্বে ওঠার আশা।
ক্যানসাস স্টেডিয়ামে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করছিল ইরানের ভাগ্য। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে আলজেরিয়ার গোলের পর ইরানের আশার আলো দেখা দিলেও শেষ মুহূর্তে গোল করে সমতা ফেরায় অস্ট্রিয়া।
শেষ পর্যন্ত নাটকীয় এই ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হয়। এই ফলের পর তিন ম্যাচে সমান ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া।
যদিও শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত দোলাচলে ছিল তিন দলের ভাগ্য। কখনও ইরানের সামনে খুলেছে নকআউটের দরজা, আবার মুহূর্তেই তা বন্ধ হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার ৩-৩ গোলের নাটকীয় ড্রয়ে শেষ হয়ে গেল ইরানের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
ইরানের জন্য সমীকরণ ছিল সহজ—আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচে যেকোনো একটি দলকে হারতে হতো। তাহলে সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিয়ে শেষ ৩২-এ উঠতে পারত তারা। কিন্তু ড্র হওয়ায় সেই সুযোগ আর মেলেনি।
ক্যানসাস স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২৮তম মিনিটে মার্কো আরনাউটোভিচের গোলে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। বিরতির ঠিক আগে রফিক বেলঘালি সমতা ফেরালে ১-১ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫তম মিনিটে মার্সেল সাবিৎসারের গোলে আবারও এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। তখন আবারও নকআউটের আশা জাগে ইরানের। কিন্তু মাত্র পাঁচ মিনিট পর রিয়াদ মাহরেজ গোল করে আলজেরিয়াকে সমতায় ফেরান।
নাটকের সবচেয়ে বড় মোড় আসে যোগ করা সময়ে। ৯০+৩ মিনিটে মাহরেজ নিজের দ্বিতীয় গোল করে আলজেরিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। সেই মুহূর্তে অস্ট্রিয়া বিদায়ের মুখে, আর ইরানের নকআউটের আশা যেন বাস্তব হতে শুরু করে।
তবে শেষ হাসি হাসে অস্ট্রিয়াই। গোলের আশায় শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নামানো সাশা কালাইডজিচ প্রথম বল স্পর্শেই দুর্দান্ত হেডে জাল খুঁজে নেন। তার সেই ৯০+৪ মিনিটের গোলে ৩-৩ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
এই ড্রয়ে তিন ম্যাচে সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া। শেষ ৩২-এ স্পেনের মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়া, আর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে আলজেরিয়া। অন্যদিকে অল্পের জন্য সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকা থেকে ছিটকে গিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো ইরানকে।