মেসির বিশ্বরেকর্ডে দাপুটে জয় আর্জেন্টিনার
বিশ্বকাপে নিজেদের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। জর্ডানকে হারিয়ে টানা নবম ম্যাচে অপরাজিত থাকল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই সঙ্গে টানা ৭ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই জিতে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে 'জি' গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ ৩২-এ আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় টুর্নামেন্টের চমক কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
একই গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়াও। ক্যানসাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নাটকীয় ৩-৩ গোলে ড্র করে দুই দলই শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করে।
অন্যদিকে এই ফলেই শেষ হয়ে যায় ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান। আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচে যেকোনো একটি দলের হার প্রয়োজন ছিল ইরানের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অস্ট্রিয়ার সমতাসূচক গোলে সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকা থেকে ছিটকে পড়ে হৃদয়ভাঙা বিদায় নিতে হয় তাদের।
আগেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সপ্তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের পাস থেকে জিওভানি লো সেলসো গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
এরপর ১৭তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে লো সেলসোকে ফাউল করেন জর্ডানের তোহা। ফ্রি-কিক পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। বক্সের বাইরে এই সুযোগে মেসির অভাব অনুভব করলেও তা এক মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেন লো সেলসো। ১৯তম মিনিটে বাঁ পায়ের নিখুঁত বাঁকানো শটে দেয়াল ভেদ করে বল জালে পাঠান তিনি, অবশ্য গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।
গোলের পরও আক্রমণ থামায়নি আর্জেন্টিনা। ২৮তম মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল থেকে মার্কোস সেনেসির হেড জর্ডানের গোলরক্ষক রুখে দেন। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা।
৩১তম মিনিটে স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। এই গোলের মাধ্যমেই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের স্বাদ পান ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে কিছুটা আক্রমণের চেষ্টা করে জর্ডান। তবে আর্জেন্টিনার সংগঠিত রক্ষণ ভেদ করে কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্কালোনির দল।
বিরতি থেকে ফিরেই তৃতীয় মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে প্রথমার্ধের মতো এবারও অফসাইডের কারণে লাউতারো মার্তিনেজের গোল বাতিল হয়।
এরপর ৫৫তম মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় জর্ডান। মুসা আল-তামারির গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১, চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হজম করা প্রথম গোল এটি।
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে লাউতারোকে তুলে লিওনেল মেসিকে মাঠে নামান কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠে নেমেই একটি ফ্রি-কিকের সুযোগ পেলেও প্রথম প্রচেষ্টায় লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
তবে দ্বিতীয় সুযোগ আর হাতছাড়া করেননি মেসি। ৮০তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। এবার বাঁ পায়ের নিচু ও নিখুঁত শটে জর্ডানের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলের তৃতীয় গোল করেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ গোল, একইসঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার গোলসংখ্যা ১৯-এ দাঁড়াল, ফলে নিজের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলেও ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে আর্জেন্টিনা।