২০৩৮ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক হতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই জমজমাট হয়ে উঠলেও মাঠের বাইরের হিসাব-নিকাশ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনই তোড়জোড় শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন। চলতি আসরের নকআউট পর্বের মহোৎসব শুরু হওয়ার আগেই হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু গিলিয়ানি ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ আবারও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার দূরদর্শী চোখ এখন ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপের দিকে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে চলমান বিশ্বকাপে সিংহভাগ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হচ্ছে মার্কিন মুলুকে। টুর্নামেন্টের ১৬টি নির্ধারিত ভেন্যুর ১১টিই যুক্তরাষ্ট্রের, এবং মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি ম্যাচের আয়োজক তারা। ফিফার সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। আর ২০৩৪ বিশ্বকাপের একক আয়োজক হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছে সৌদি আরব। ফলে ২০৩৪ সালের পর, অর্থাৎ আজ থেকে ঠিক ১২ বছর পর ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্র যে শক্তভাবে নামছে, সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন গিলিয়ানি।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্ড্রু গিলিয়ানি বলেন, ‘২০৩৮ সালের আয়োজক নির্ধারণে ফিফার অফিশিয়াল বিডিং (আবেদন) কার্যক্রম তো শুরু হবেই। তবে সেই ভবিষ্যৎ বিড নিয়ে এখনই বেশি মাতামাতি না করে, আমরা চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপটি সফল ও নিখুঁতভাবে শেষ করার দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে চাই।’
ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে বসা বিশ্বকাপের আসর। এর আগে ১৯৯৪ সালে এককভাবে সফল বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবারের আয়োজনকে ঘিরে বিতর্কের মুখেও পড়তে হয়েছে মার্কিন প্রশাসনকে। টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে সাধারণ ফুটবল সমর্থক ও বিভিন্ন ফুটবল গোষ্ঠীর ক্ষোভের পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরান ফুটবল দলের সাপোর্টিং স্টাফসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের ভিসা জটিলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সমালোচনা হয়েছে।
তার ওপর চলতি আসর থেকেই বিশ্বকাপের দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। ফুটবল মহলে জোর গুঞ্জন চলছে, আগামী ২০৩০ বা ২০৩৪ সাল নাগাদ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৬৪-তে উন্নীত করতে পারে ফিফা। দল বাড়ার এই চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনার জবাবে গিলিয়ানি মার্কিন পরিকাঠামো ও সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিবিসিকে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘ভবিষ্যতে যদি ফিফা ৬৪ দলের বিশ্বকাপও আয়োজন করতে চায়, তবে সেই বিশাল ও মেগা টুর্নামেন্ট এককভাবে সফল করার মতো বিশ্বমানের অবকাঠামো, স্টেডিয়াম ও লজিস্টিক সামর্থ্য একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে।’
ফিফার বর্তমান রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী দুটি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ও সম্ভাব্য ভেন্যুগুলো একরকম চূড়ান্ত হয়ে থাকায়, ফুটবল বিশ্বের পরবর্তী বড় কূটনৈতিক লড়াই শুরু হবে ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপের বিডিং কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে। আর সেখানে যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে, হোয়াইট হাউসের এই কর্মকর্তার বক্তব্যে তা স্পষ্ট।