২৭ জুন ২০২৬, ১৬:১৬

এবার ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনার ভিডিও

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনার ভিডিও  © টিডিসি সম্পাদিত

পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের অফিসিয়াল ফুটবল ফেডারেশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনা। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারানোর পর বিজয় উদযাপনের ছয়টি ভিডিও প্রকাশ করে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। সেখানে ব্রাজিলের তিনটি শহর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের ব্রাজিল সমর্থকদের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসের ভিডিওও।

শনিবার (২৭ জুন) ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিলের গোলের পর মাঠে খেলোয়াড়দের উদযাপন, ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো, রেসিফে ও বেলো হরিজন্তের সমর্থকদের আনন্দ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের ব্রাজিল ভক্তদের উচ্ছ্বাস এবং ভারতের কেরালার সমর্থকদের উদযাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে হাজারো শিক্ষার্থীর উদযাপনের দৃশ্যও স্থান পায়।

গত ২৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে খেলা উপভোগ করতে জড়ো হন হাজারো শিক্ষার্থী ও ফুটবলপ্রেমী। ব্রাজিলের গোল হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পুরো মিলনায়তন। হলুদ জার্সি, ব্রাজিলের পতাকা ও সমস্বরে উদযাপনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সাড়া ফেলে।

বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের ফুটবল উন্মাদনা নিয়মিতভাবে জায়গা করে নিচ্ছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, ক্রীড়া প্ল্যাটফর্ম এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের প্রতিটি ম্যাচে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসের ভিডিও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফক্স সকার, ইএসপিএন, মার্কা, টিওয়াইসি স্পোর্টস, দিয়ারিও ওলে এবং জনপ্রিয় ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ও সাংবাদিকরাও এসব ভিডিও শেয়ার করে আলোচনায় এনেছেন বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতিকে।

এর আগে ড্যাফোডিলের ফুটবল উন্মাদনা নজর কাড়ে ব্রাজিল তারকা নেইমার জুনিয়রের। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি একটি ভিডিওতে নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। পরে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও ড্যাফোডিলের ব্রাজিল সমর্থকদের একটি ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন এবং লেখেন, "আপনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, আমাদের এই সুন্দর খেলাটি আমাদের সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে।"

নেইমারের প্রতিক্রিয়া এবং ফিফা সভাপতির পোস্টের পর এবার ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মেও স্থান পাওয়ায় ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস যেন নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই ফ্রেমে ব্রাজিলের নিজস্ব শহরগুলোর সমর্থকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উদযাপনের দৃশ্য স্থান পাওয়া বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ও ভালোবাসার একটি অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিম বলেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলছে না, কিন্তু আজ বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় বড় প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে নিচ্ছে। নেইমারের লাইক, ফিফা সভাপতির পোস্ট এবং এখন ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল পেজে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের উল্লাসের ভিডিও স্থান পাওয়া আমাদের জন্য গর্বের। এটি প্রমাণ করে, ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও আবেগ বিশ্বের নজর কাড়তে সক্ষম।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ত্বোহা বলেন, ফুটবল আমাদের কাছে শুধু একটি খেলা নয়, এটি অনুভূতি, পরিচয় এবং উদযাপনের অংশ। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো কিংবা ভারতের কেরালার সমর্থকদের সঙ্গে একই পোস্টে বাংলাদেশের ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের উদযাপনের দৃশ্য স্থান পাওয়া সত্যিই বিশেষ একটি মুহূর্ত। এটি শুধু ড্যাফোডিলের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্যই একটি বড় স্বীকৃতি।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু আমাদের প্রিয় দলকে সমর্থন করেছি, কিন্তু সেই সমর্থন আজ আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচয় বহন করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গে একই মঞ্চে বাংলাদেশের উপস্থিতি আমাদের জন্য স্মরণীয় একটি অর্জন।

বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষার্থীদের মতে, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের এই ফুটবল উদযাপনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু একটি ক্যাম্পাসভিত্তিক ঘটনার সীমায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের তরুণ সমাজের বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক সংযোগের একটি ইতিবাচক উদাহরণ। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এমন ঘটনাগুলো তরুণদের সৃজনশীলতা, আবেগ এবং খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং এটি পারস্পরিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বৈশ্বিক ঐক্যের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।