নকআউট পর্বের শুরুতেই ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কোন দল, দেখুন সম্ভাব্য সমীকরণ
গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থান দখল করা সেলেসাওদের সামনে এখন একটাই প্রশ্ন—শেষ ৩২ পর্বে প্রতিপক্ষ কে হবে? বর্তমান সমীকরণ বলছে, জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তবে শেষ ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে পুরো চিত্র।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জোড়া গোল করেন, আর একটি গোল আসে মাতেউস কুনিয়ার পা থেকে। এই জয়ের ফলে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত হয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দলের।
নিয়ম অনুযায়ী, শেষ ৩২ পর্বে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানারআপ দল। বর্তমানে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপটির শীর্ষে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে জাপান। তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সুইডেন। অন্যদিকে কোনো পয়েন্ট না পাওয়ায় ইতোমধ্যেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তিউনিসিয়ার।
পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে জাপান। সম্ভাবনার হিসাব অনুযায়ী—
* জাপান — ৫৭.৮ শতাংশ
* সুইডেন — ৩০.০ শতাংশ
* নেদারল্যান্ডস — ১২.২ শতাংশ
বিশ্লেষকদের মতে, যদি প্রত্যাশিত ফলাফলগুলো ঠিকঠাক আসে, তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিল-জাপান লড়াই দেখার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। সেক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসকে হারাতে হবে ইতোমধ্যে বিদায় নিশ্চিত হওয়া তিউনিসিয়াকে এবং জাপানকে পরাজিত করতে হবে সুইডেনকে।
অন্যদিকে সুইডেন যদি জাপানকে হারায়, তাহলে গ্রুপের অবস্থান বদলে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে সুইডেনের।
আর জাপান ও সুইডেনের ম্যাচ ড্র হলে সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠবে। তখন নেদারল্যান্ডসকে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জয় পেতেই হবে। যদি ডাচরা অঘটনের শিকার হয়ে হেরে যায়, তাহলে তারাই ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হয়ে যেতে পারে।
গ্রুপ ‘এফ’-এর ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার। ব্রাসিলিয়া সময় রাত ৮টায় কানসাসে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে তিউনিসিয়া। একই সময়ে ডালাসে জাপান খেলবে সুইডেনের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচের ফলই ঠিক করে দেবে ব্রাজিলের নকআউট প্রতিপক্ষ।
এদিকে ব্রাজিলের জন্য কোন প্রতিপক্ষ সবচেয়ে সুবিধাজনক হতে পারে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। তবে কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা এখনই কোনো দলকে বেছে নিতে চাইছেন না। তাদের লক্ষ্য নকআউট পর্বে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
সম্ভাব্য ম্যাচআপ নিয়ে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ করেছেন অর্থনীতিবিদ ব্রুনো ইমাইজুমি। তার মতে, সম্ভাবনার হিসাব কোনো চূড়ান্ত ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য পরিস্থিতির একটি চিত্র।
তিনি বলেন, ‘প্রথম খেলাটি শুরু হওয়ার আগে এটি বর্তমান পরিস্থিতির একটি চিত্র। এটি মডেলের বর্তমান প্যারামিটারগুলোর ওপর ভিত্তি করে টুর্নামেন্টের প্রতিটি পর্যায়ে পৌঁছানোর আনুমানিক সম্ভাবনাকে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে। এটি কোনো নিশ্চয়তা বা স্থির ভবিষ্যদ্বাণী নয়, কেবল একটি সম্ভাবনা যা ফলাফল জানা যাওয়ার সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়।’
বিশ্লেষণটি তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন পরিসংখ্যানগত উপাদানের ভিত্তিতে। এর মধ্যে রয়েছে প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি), ফিফা র্যাঙ্কিং, খেলোয়াড়দের বাজারমূল্যের তথ্য এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ইতিহাস। এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রতিটি ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল এবং দলগুলোর পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর শেষ দুই ম্যাচের দিকেই এখন তাকিয়ে ব্রাজিল। কারণ সেই ফলাফলই নির্ধারণ করবে, নকআউট পর্বের শুরুতে সেলেসাওদের সামনে দাঁড়াবে জাপান, সুইডেন নাকি নেদারল্যান্ডস।