স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে কুরাসাও, আজও কি পারবে বিশ্বকে চমকে দিতে
মাত্র দেড় লাখ মানুষের একটি দেশ। বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়াই ছিল যাদের কাছে অবিশ্বাস্য এক অর্জন, সেই কুরাসাও এখন দাঁড়িয়ে ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আইভরি কোস্টকে হারাতে পারলে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখবে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি। একই সঙ্গে ফুটবল বিশ্বকে উপহার দিতে পারে আসরের অন্যতম বড় চমক।
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-এর সমীকরণ শেষ ম্যাচের আগে পৌঁছে গেছে চরম উত্তেজনায়। দুই ম্যাচ থেকে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে জার্মানি ইতোমধ্যে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। তবে বাকি তিন দলের ভাগ্য এখনো ঝুলে আছে শেষ ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে জার্মানির মুখোমুখি হবে ইকুয়েডর। অন্য ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে মাঠে নামবে কুরাসাও। এই দুই ম্যাচই নির্ধারণ করবে গ্রুপের বাকি দুটি সম্ভাব্য নকআউট টিকিটের ভাগ্য।
বর্তমানে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে জার্মানি। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে আইভরি কোস্ট। ইকুয়েডর ও কুরাসাও—দুই দলেরই সংগ্রহ ১ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ইকুয়েডর তৃতীয় এবং কুরাসাও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
তবু সমীকরণ এখনো পুরোপুরি খোলা। বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাটে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করলে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল থাকে। সেই সুযোগই এখন বাঁচিয়ে রেখেছে ইকুয়েডর ও কুরাসাও।
ইকুয়েডরের সামনে অবশ্য অপেক্ষা করছে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ। নকআউটে যাওয়ার আশা ধরে রাখতে হলে তাদের হারাতে হবে শক্তিশালী জার্মানিকে। যদি তারা জিতে যায় এবং অন্য ম্যাচে আইভরি কোস্ট হেরে যায়, তাহলে সরাসরি গ্রুপ রানারআপ হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেবে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
অন্যদিকে ড্র করতে পারলেও ইকুয়েডরের পয়েন্ট হবে ৪। সেক্ষেত্রে সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকায় শক্ত অবস্থানে থাকবে তারা। তবে প্রথম দুই ম্যাচে সাত গোল করা জার্মানিকে আটকে রাখা মোটেও সহজ হবে না।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে কুরাসাও। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা দেশটি শুরুতে জার্মানির কাছে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে।
এখন তাদের সামনে আরও বড় সুযোগ। আইভরি কোস্টকে হারাতে পারলেই কুরাসাওয়ের সংগ্রহ হবে ৪ পয়েন্ট। তখন নকআউট পর্বে ওঠার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হবে তাদের সামনে।
সমীকরণ আরও নাটকীয় হতে পারে যদি ইকুয়েডর ও কুরাসাও—দুই দলই নিজেদের ম্যাচ জিতে যায়। সেক্ষেত্রে আইভরি কোস্ট বিদায় নেবে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকলে ইকুয়েডর গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউটে উঠবে, আর কুরাসাও সেরা তৃতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
শেষ ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী ইকুয়েডর শিবিরও। দলের কোচ বলেছেন, ‘জার্মানি বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। কিন্তু ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আমরা আমাদের জীবনের সেরা ৯০ মিনিট খেলতে মাঠে নামব।’
কুরাসাও কোচ ডিক অ্যাডভোকাটও বিশ্বাস হারাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘কেউ ভাবেনি আমরা বিশ্বকাপে খেলব। কেউ ভাবেনি আমরা পয়েন্ট পাব। আজ আমরা পুরো বিশ্বকে আরও একবার চমকে দিতে চাই।’
এখন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে গ্রুপ ‘ই’-এর দুই ম্যাচে। জার্মানি কি নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখবে, নাকি কুরাসাও লিখবে বিশ্বকাপের নতুন রূপকথা—তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।