বিশ্বকাপে লাল কার্ড খাওয়ায় শীর্ষে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার অবস্থান কত
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ডে সবার ওপরে রয়েছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন পর্যন্ত ১১৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে ১১টি লাল কার্ড দেখেছে। আর সেই তালিকায় ব্রাজিলের ঠিক পরেই রয়েছে আর্জেন্টিনা, যারা ক্যামেরুনের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই মাঠের শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর মধ্যকার ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। তুলনামূলকভাবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পুরো আসরেই মাত্র চারটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল।
বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড পাওয়া দলের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল। ১১৫ ম্যাচে ১১টি লাল কার্ড দেখে তারা এই রেকর্ডের মালিক হয়েছে।
ব্রাজিলের পর যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ক্যামেরুন। দুই দলই বিশ্বকাপে ৯টি করে লাল কার্ড পেয়েছে। তবে ক্যামেরুন ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার তুলনায় অনেক কম ম্যাচ খেলেই এই সংখ্যায় পৌঁছেছে, যা তাদের শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ডকে আরও উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে।
তালিকার পরের অবস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, ইতালি এবং উরুগুয়ে। এই তিন দলই বিশ্বকাপে ৮টি করে লাল কার্ড দেখেছে।
জার্মানি ও মেক্সিকো রয়েছে এরপরের ধাপে। দুই দলই বিশ্বকাপের বিভিন্ন আসরে ৭টি করে লাল কার্ড পেয়েছে।
শীর্ষ দশের বাকি দুটি দল হলো ফ্রান্স ও পর্তুগাল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই দুই ইউরোপীয় দল ৬টি করে লাল কার্ড দেখেছে।
শুধু লাল কার্ড নয়, হলুদ কার্ডের তালিকাতেও ফুটবল বিশ্বের বড় বড় দলগুলোই এগিয়ে রয়েছে। আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ব্রাজিল, নেদারল্যান্ডস, ইতালি এবং মেক্সিকো সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ড পাওয়া দলগুলোর মধ্যে অন্যতম।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব দলের লাল ও হলুদ কার্ডের সংখ্যা বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো বিশ্বকাপে তাদের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি এবং বেশি সংখ্যক ম্যাচ খেলা। নিয়মিত নকআউট পর্বে ওঠা ও শিরোপার লড়াইয়ে থাকা দলগুলো স্বাভাবিকভাবেই বেশি ম্যাচ খেলে, ফলে কার্ড দেখার সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়।
তবে পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে লাল কার্ডের তালিকায় এখনও সবার ওপরে রয়েছে ব্রাজিল। আর তাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে অন্যতম আর্জেন্টিনা, যারা ক্যামেরুনের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।