কোনেকে ফাউল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম কঠোর শাস্তি পেলেন মাদিবো
কানাডার মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনেকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় কাতারের আসিম মাদিবোর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ফিফা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম কঠোর শাস্তি হিসেবে কাতারি এই মিডফিল্ডারকে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। গুরুতর সেই ফাউলে কোনের টিবিয়া ও পেরোনে হাড় ভেঙে যায়, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ চোটের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রুপ ‘বি’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে ৬-০ গোলের বড় জয় পায় কানাডা। তবে ম্যাচের ৫১ মিনিটে ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত সেই ঘটনা। ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে মাদিবো পেছন দিক থেকে এসে ইসমাইল কোনেকে জোরে আঘাত করেন। ফাউলের পর মারাত্মক ব্যথায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন কানাডিয়ান মিডফিল্ডার। পরে চিকিৎসকরা তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় মাদিবোকে। পরবর্তীতে পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি ফাউলটিকে ‘গুরুতর ফাউল’ হিসেবে চিহ্নিত করে। তদন্ত শেষে পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
ফিফার এই শাস্তি বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা হিসেবে রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর চেয়ে বড় শাস্তির নজির রয়েছে মাত্র দুটি।
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কামড় দেওয়ার ঘটনায় উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজকে ৯ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। অন্যদিকে ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে স্পেনের লুইস এনরিকেকে কনুই দিয়ে আঘাত করার দায়ে ইতালির মাউরো তাসোত্তিকে ৮ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
এদিকে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে ইসমাইল কোনের। চিকিৎসকদের ধারণা, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে তার প্রায় পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে। দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হওয়ায় ফিফা তাদের ‘ক্লাব সুরক্ষা কর্মসূচি’ চালু করবে।
এই কর্মসূচির আওতায় কোনের ক্লাব সাসুওলোকে প্রায় ১০ লাখ ইউরো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুরুতর চোটে পড়া ফুটবলারদের ক্লাবকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়মের অংশ হিসেবেই এই অর্থ প্রদান করা হবে।
তবে শাস্তির পাশাপাশি নিজের ভুলও স্বীকার করেছেন মাদিবো। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর তিনি হাসপাতালে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ইসমাইল কোনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
বিশ্বকাপের এবারের আসরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুতর ইনজুরির ঘটনার জেরেই বিশ্ব ফুটবলে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা। আর সেই ঘটনার পর বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোকে।