ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা
দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাফানা বাফানা। গ্রুপ ‘এ’-এর শেষ ম্যাচে থাপেলো মাসেকোর একমাত্র গোলে জয় তুলে নিয়ে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দলটি। একই সময়ে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো।
মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই লড়াকু ফুটবল খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে ছেপাং মোরেমির নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করেন থাপেলো মাসেকো। তার করা সেই একমাত্র গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
এই জয়ে তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপের শীর্ষে থাকা মেক্সিকোর সংগ্রহ ৯ পয়েন্ট। তারা তিনটি ম্যাচই জিতেছে। বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা পায়।
অন্যদিকে তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা এখনই শেষ হয়ে যায়নি। সেরা আট তৃতীয় স্থানধারী দলের মধ্যে থাকতে পারলে তারাও দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাবে। সে জন্য গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে এশিয়ার দলটিকে।
একই সময়ে অনুষ্ঠিত গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে মেক্সিকো। স্বাগতিকদের হয়ে গোল করেন মাতেও চাভেস, হুলিয়ান কিনিওনেস ও আলভারো ফিদালগো।
এই ম্যাচে আরেকটি বিশেষ ঘটনা ছিল অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার বিশ্বকাপ অভিষেক। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়েন। এর মাধ্যমে তিনি লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল মেক্সিকো। তিন ম্যাচে তারা ছয়টি গোল করেছে, কোনো গোল হজম করেনি এবং পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২ পর্বে উঠেছে। এখন তারা গ্রুপ ‘সি’, ‘ই’, ‘এফ’, ‘এইচ’ অথবা ‘আই’-এর তৃতীয় স্থানধারী কোনো দলের বিপক্ষে খেলবে। আগামী ৩০ জুন আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচ।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি এক ঐতিহাসিক অর্জন। এর আগে ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও তারা কখনো গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। বিশেষ করে ২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন করেও প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে। এবার সেই আক্ষেপ মুছে দিল তারা।
চলতি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে যায় তারা। এরপর চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-১ সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে। ফলে শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না তাদের সামনে।
সেই কঠিন সমীকরণই সফলভাবে মেলাতে পেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপে নিজেদের চেয়ে এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিয়ুং-বো ম্যাচের আগে বড় চমক দেন। তিনি অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে শুরুর একাদশে রাখেননি। গত এক দশক ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলারকে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয়। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির এই তারকা মাঠে নেমেও দলের ভাগ্য বদলাতে পারেননি।
বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া শুরু করেছিল চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় দিয়ে। এরপর মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হারে তারা। শেষ ম্যাচেও পরাজয়ের কারণে সরাসরি নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ হারিয়েছে দলটি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ কোরিয়ার রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ২০০২ সালে তারা প্রথম এশিয়ান দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিল। এছাড়া ২০১০ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ ১৬-তে উঠেছিল তায়েগুক ওয়ারিয়র্সরা। তবে এবার তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর।
এদিকে ঐতিহাসিক সাফল্যের আনন্দে ভাসছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বাফানা বাফানা।