২০০২ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি ব্রাজিলের?
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জোড়া গোল কেবল ব্রাজিলের শেষ ৩২-এর টিকিটই নিশ্চিত করেনি, বরং সাম্বা ভক্তদের মনে ফিরিয়ে এনেছে ২৪ বছর আগের এক সোনালী স্মৃতি। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভিনির এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বকে বাধ্য করছে ২০০২ সালের সেই অবিস্মরণীয় ‘পেন্টা’ জয়ের মিশনের সাথে মিল খুঁজে পেতে।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কঠিন ও বিরল কীর্তি হলো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করা। পুরুষ বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের হয়ে এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখাতে পেরেছেন মাত্র কয়েকজন ফুটবল রয়্যালটি বা রাজপুত্র। ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে শেষবার ব্রাজিলের হয়ে এই জোড়া কীর্তি গড়েছিলেন দুই কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও এবং রিভালদো। সেবার তাঁরা দুজনেই গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছিলেন।
২০০২ সালের পর দীর্ঘ ছয়টি আসর কেটে গেলেও বিশ্বমঞ্চে কোনো ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এই কীর্তি আর ছুঁতে পারেননি। ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে ঠিক সেই চেনা ছন্দে দেখা দিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই জালের দেখা পেয়ে ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে এই অনন্য এলিট ক্লাবে সগৌরবে নিজের নাম লেখালেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মহাতারকা। এর আগে ১৯৭০ সালে জাইরজিনহো এবং ১৯৯৪ সালে রোমারিও ব্রাজিলের হয়ে এই রেকর্ড গড়েছিলেন।
২৪ বছর আগে রোনালদো ও রিভালদোর সেই অবিশ্বাস্য ফর্ম ব্রাজিলকে এনে দিয়েছিল তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ ট্রফি। এবার ভিনিসিয়াসের এই অতিমানবীয় ধারাবাহিকতা, সাথে ডিফেন্সে ৫০তম ক্লিন শিটের নতুন মাইলফলক আর শেষ মুহূর্তে নেইমারের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন—সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্ব যেন ২০০২ সালের সেই মহাকাব্যিক রাজত্বের পুনরাবৃত্তিই দেখতে পাচ্ছে। ভিনির এই বিধ্বংসী ফর্ম ধরে রেখে সেলেসাওরা এবার তাদের অধরা ‘হেক্সা’ মিশন পূর্ণ করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।