২৫ জুন ২০২৬, ০৬:৩০

পেলে-কাফু-রোনালদোর এলিট ক্লাবে নেইমার

নেইমার জুনিয়র   © সংগৃহীত

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে যখন ডাগআউট থেকে কার্লো অ্যানচেলত্তি তাঁকে মাঠে নামার সংকেত দিলেন, মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের গ্যালারি তখন মেতে ওঠে গগনবিদারি উল্লাসে। তরুণ উইঙ্গার রায়ানের বদলি হিসেবে পিঠের সেই চিরচেনা ১০ নম্বর জার্সি গায়ে নেইমার জুনিয়র যখন মাঠের সবুজ ঘাস স্পর্শ করলেন, সেটি কেবলই একটি সাধারণ প্রতিস্থাপন ছিল না। তা ছিল ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে অনন্য এক কীর্তিগাথা। দীর্ঘ ৯৮২ দিন পর সেলেসাও জার্সিতে ফিরেই এক ঐতিহাসিক রেকর্ডে নাম লেখালেন এই ফুটবল জাদুকর।

​কিংবদন্তি পেলে, কাফু এবং রোনালদো নাজারিওর পর চতুর্থ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬) খেলার অনন্য ও অভিজাত এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন নেইমার। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই ভয়াবহ এসিএল ইনজুরিতে পড়ার পর আজই প্রথম ব্রাজিলের হয়ে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামলেন তিনি। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার কষ্ট ভুলে নেইমারের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন সাম্বার দেশকে যেন এক নতুন আবেগে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

​ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এর আগে চার বা তার বেশি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার নজির আছে কেবল তিনজনের। ১৯৫৮ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে চার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনবারই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন ফুটবল সম্রাট পেলে। ডিফেন্ডার কাফু ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা চার বিশ্বকাপে খেলেছেন, যার মধ্যে তিনবার খেলেছেন ফাইনাল। আর ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিও ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ সালের স্কোয়াডে থেকে অংশ নিয়েছেন চার বিশ্বকাপে। এবার এই তিন মহাতারকার পাশে সগৌরবে বসে পড়লেন নেইমার।

​সেলেসাওদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার (৭৯ গোল) এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অধরা স্বপ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। ক্যারিয়ারের একদম শেষ প্রান্তে এসে নিজের চার নম্বর বিশ্বকাপটিকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে রঙিন অধ্যায় বানানোর যে আকাঙ্ক্ষা কোটি ভক্তের বুকে জমা ছিল, তাঁর এই উপস্থিতিতে সেই স্বপ্নের পালে নতুন করে হাওয়া লাগল। নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে নেইমারের এই ফেরা দলের আত্মবিশ্বাস যে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।