২৫ জুন ২০২৬, ০২:২৫

যে সমীকরণে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যেতে পারে ব্রাজিল

ব্রাজিল  © সংগৃহীত

আর্জেন্টাইন ফ্যানদের মনে এখন অন্যরকম এক দোলাচল। লিওনেল মেসির ট্রফি ক্যাবিনেট ভরা, দলের ফর্মও তুঙ্গে; কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল যদি গ্রুপ পর্ব থেকেই প্যাক-আপ করে বাড়ি ফিরে যায়— তাহলে আনন্দের মাত্রাটা যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়! গণিতবিদরা বলছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শেষ ৩২-এ যাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৮১%। কিন্তু ফুটবল তো আর খাতার অঙ্ক নয়, এখানে গোল বলের নাটক যেকোনো মুহূর্তে সব পাল্টে দিতে পারে।

তাহলে বাকি ০.১৯% মিরাকল ঘটিয়ে ব্রাজিলকে বিদায় করতে আর্জেন্টিনার ফ্যানদের ক্যালকুলেটরে ঠিক কী অদ্ভুত সমীকরণ মিলতে হবে? চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার ‘মহা-ক্যালকুলেশন’।

ধাপ-১: স্কটল্যান্ডের কাছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক পতন

প্রথম শর্ত একদম সোজা। ব্রাজিল যদি স্কটল্যান্ডের সাথে ড্র করে বা জিতে যায়, তবে তাদের পয়েন্ট হবে অন্তত ৫। ৫ পয়েন্ট নিয়ে কোনো দলের বিদায় নেওয়া গাণিতিকভাবে অসম্ভব। তাই আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের প্রথম প্রার্থনা— স্কটল্যান্ডকে যেকোনো মূল্যে ব্রাজিলকে হারাতে হবে!

একই সাথে অন্য ম্যাচে মরক্কো যদি হাইতির বিপক্ষে জয় বা ড্র পায়, তবে ব্রাজিল ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-তে সোজা ৩ নম্বরে নেমে যাবে। ব্যস, নাটকের প্রথম অংক সফল!

ধাপ ২: ‘সেরা আট’ থেকে ব্রাজিলের চেয়ে এগিয়ে যেতে হবে অন্যদের

৪ পয়েন্ট পাওয়ার পরও ব্রাজিল বেশ নিরাপদ। তাদের গোল ব্যবধানও এখন বেশ ভালো (+৩)। ব্রাজিলকে টুর্নামেন্ট থেকে লাথি মেরে বের করতে হলে, বাকি ১১টি গ্রুপের ৩ নম্বর দলগুলোর মধ্যে অন্তত ৮টি দলকে ব্রাজিলের ৪ পয়েন্ট বা গোল ব্যবধানকে টপকে যেতে হবে।

বর্তমানে ৩ নম্বর দলগুলোর যে অবস্থা, তাতে ব্রাজিলকে টপকাতে হলে নিচের ১১টি অবাস্তব ও অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার মধ্যে অন্তত ৬টি ঘটনা একসাথে ঘটতে হবে:
 গ্রুপ এফ: সুইডেনকে জাপানকে হারাতে হবে অথবা ড্র করতে হবে (৪+ পয়েন্ট)।
 গ্রুপ এল: ক্রোয়েশিয়াকে ঘানার বিপক্ষে সরাসরি জিততে হবে (৬ পয়েন্ট)।
 গ্রুপ জে: আলজেরিয়াকে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৬ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে (যাতে ব্রাজিলের +৩ গোল ব্যবধানকে তারা টপকাতে পারে)।
 গ্রুপ ডি: প্যারাগুয়েকে অস্ট্রেলিয়ার জালে অন্তত ৬ গোল পুরতে হবে।
 গ্রুপ এইচ: কেপ ভার্দেকে তাদের শেষ ম্যাচে জিতে ৫ পয়েন্টে পৌঁছাতে হবে।
 গ্রুপ জি: বেলজিয়ামকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে ৫ পয়েন্ট পেতে হবে।
 গ্রুপ এ: চেক প্রজাতন্ত্রকে মেক্সিকোর মতো পরাশক্তির বিপক্ষে অন্তত ৫ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে।
 গ্রুপ কে: ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে তাদের ম্যাচে ৫ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে।
 গ্রুপ ই: ইকুয়েডরকে শক্তিশালী জার্মানির জালে গোল উৎসব করে ৫ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে!
 গ্রুপ বি: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে জিততে হবে অন্তত ৭ গোলের ব্যবধানে।
 গ্রুপ আই: ০ পয়েন্টে থাকা সেনেগালকে তাদের শেষ ম্যাচে অলৌকিকভাবে ৭ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে।

চূড়ান্ত সারসংক্ষেপ: কপালে কী আছে সেলেসাওদের?

আর্জেন্টাইন ফ্যানদের এই সমীকরণ মেলাতে হলে একাধারে জার্মানি, মেক্সিকো ও অস্ট্রেলিয়ার ৫-৬ গোল খাওয়ার মতো অবিশ্বাস্য বিপর্যয় ঘটতে হবে, আবার একই সাথে প্যারাগুয়ে ও আলজেরিয়াকে বনে যেতে হবে রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা ম্যানচেস্টার সিটি!

তবে ব্রাজিল যদি স্কটল্যান্ডের কাছে বিরাট বড় ব্যবধানে হারে, তবে অন্য গ্রুপের ৩ নম্বর দলগুলোর জন্য ব্রাজিলকে টপকে যাওয়াটা সহজ হয়ে যাবে। তখন বাকি দলগুলোকে কোনো অলৌকিক কাণ্ড ঘটাতে হবে না, নিজেদের স্বাভাবিক ম্যাচ জিতলেই তারা ৪ পয়েন্টের ব্রাজিলকে ৩ নম্বরের টেবিলের ৯ নম্বরে বা তার নিচে নামিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিতে পারবে।

তাত্ত্বিকভাবে ব্রাজিলের বাদ পড়ার এই সমীকরণটিকে ‘পাগলের প্রলাপ’ মনে হতেই পারে, কিন্তু ডাগআউটে যখন থমাস টুখেলের মতো ট্যাকটিশিয়ান আর মাঠে হ্যারি কেইনের মতো তারকারা নাটকীয় সব জন্ম দিচ্ছেন, তখন কে জানে— হয়ত ফুটবলের ঈশ্বর কোনো আর্জেন্টাইন সমর্থকের ক্যালকুলেটর দেখেই আজকের ম্যাচের ভাগ্য লিখে রেখেছেন!