গিঁজনের কলঙ্ক: ফুটবল বিশ্বকাপের কুখ্যাত পাতানো ম্যাচ
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক গৌরবের উপাখ্যান যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু চরম লজ্জাজনক অধ্যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ, যা ফুটবল ইতিহাসে ‘ডিজগ্রেস অব গিঁজন’ বা ‘গিঁজনের কলঙ্ক’ নামে পরিচিত। স্পেনের গিঁজন শহরের এল মোলিনন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি ফুটবল মাঠের স্পিরিটকে চিরতরে কালিমালিপ্ত করেছিল।
সেবারের আসরে নবাগত আলজেরিয়া তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল। তারা তাদের শেষ ম্যাচটি জার্মানি-অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগের দিনই খেলে ফেলেছিল। ফলে সমীকরণটি এমন দাঁড়িয়েছিল যে, পশ্চিম জার্মানি যদি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ১ বা ২ গোলের ব্যবধানে জেতে, তবে গোল ব্যবধানের হিসাবে আলজেরিয়াকে বিদায় করে এই দুই ইউরোপীয় দেশই পরের রাউন্ডে চলে যাবে। ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় হর্স্ট রুবেশের গোলে পশ্চিম জার্মানি এগিয়ে যায়।
এর পরের ৮০ মিনিট যা হয়েছিল, তা ফুটবলের নামে এক চরম প্রহসন। গোল হওয়ার পর দুই দলই আক্রমণ করা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। তারা নিজেদের অর্ধে বল দেওয়া-নেওয়া করে সময় কাটাতে থাকে। গ্যালারির দর্শকরা এই নগ্ন ফিক্সিং বুঝতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং স্প্যানিশ দর্শকরা ‘ফুয়েরা, ফুয়েরা’ (বেরিয়ে যাও) বলে চিৎকার করতে থাকে। আলজেরিয়ার সমর্থকরা ক্ষোভে গ্যালারি থেকে মাঠে টাকা ছুড়ে মারে। ফিফা সেবার এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে না পারলেও, এই ঘটনার জের ধরেই পরবর্তী বিশ্বকাপ থেকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো একই সময়ে আয়োজনের যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি নিতে বাধ্য হয়।