২৫ জুন ২০২৬, ০১:৩৪

একই সময়ে কেন হচ্ছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন প্রবেশ করেছে গ্রুপ পর্বের শেষ ও সবচেয়ে রোমাঞ্চকর রাউন্ডে। মাঠের ফুটবল যখন নক-আউটের টিকিটের জন্য ফুটছে, তখনই ফুটবলপ্রেমীরা একটি চেনা নিয়ম লক্ষ্য করছেন— একই গ্রুপের শেষ দুটি ম্যাচ একই সময়ে বা সমান্তরালভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৪৮ দলের এই বিশাল টুর্নামেন্টে যখন একই সাথে দুটি ভিন্ন স্টেডিয়ামে রেফারি বাঁশি বাজাচ্ছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে— চলতি বিশ্বকাপে কেন এমন নিয়ম কঠোরভাবে মানা হচ্ছে?

এর পেছনের মূল কারণ হলো, খেলাটির মহৎ স্পিরিট ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ম্যাচ পাতানো বা কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি অন্যায্য সুযোগ সুবিধা পাওয়া রোধ করা। যদি এই ম্যাচগুলো আলাদা সময়ে আয়োজন করা হতো, তবে পরে খেলতে নামা দলগুলো তাদের আগের প্রতিপক্ষের চূড়ান্ত ফলাফল ও টেবিলের সমীকরণ খুব সহজেই জেনে যেত। এতে করে পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য তাদের ঠিক কী ফলাফল বা কত গোলের ব্যবধান প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে এক অলিখিত ‘আঁতাত’ বা কৌশলগত সমঝোতা করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হতো।

২০২৬ বিশ্বকাপের এই অন্তিম লগ্নে এসে সমান্তরাল কিক-অফের ফলে কোনো দলই অন্য মাঠে কী ঘটছে, তার চূড়ান্ত ফলাফল আগে থেকে জানতে পারছে না। যদিও ডাগআউটে বসে অন-লাইনের মাধ্যমে মুহূর্তের লাইভ আপডেট পাওয়া সম্ভব, তবুও খেলা চলাকালীন প্রতি মুহূর্তের ওঠানামা এবং স্নায়ুচাপ খেলোয়াড়দের বাধ্য করছে মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে। ফলে কোনো অলিখিত চুক্তির আশ্রয় না নিয়ে, খেলার প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত অটুট থাকছে এবং ফুটবল মাঠে শতভাগ সততা নিশ্চিত হচ্ছে।