২৪ জুন ২০২৬, ১১:৫৭

শেষ ম্যাচ জিতলেও ফিফার নতুন নিয়মে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ৫ দলের

বিশ্বকাপ ট্রফি   © সংগৃহীত

মাঠে বল গড়ানোর আগেই যেন ভাগ্য নির্ধারণের নির্মম সমীকরণ! গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াই শেষ হতেই ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে চূড়ান্ত বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে পাঁচ-পাঁচটি দলের। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আর কোনো গাণিতিক সুযোগই নেই তাদের সামনে। দলগুলোর এমন অকাল বিদায়ের পেছনে মূলত কাজ করেছে চলতি আসরে ফিফার আনা এক বড় নিয়ম পরিবর্তন।

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে গোল ব্যবধানের সনাতন নিয়মের আগে ‘হেড-টু-হেড’ বা পরস্পরের মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলকে মূল টাইব্রেকার হিসেবে ধরা হচ্ছে। ফিফার এই নতুন নিয়মের কঠিন গ্যাঁড়াকলে পড়ে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে যদি রূপকথার জয় পেয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলেও নেয় তবুও হাইতি, তুরস্ক, জর্ডান, তিউনিসিয়া ও পানামার পক্ষে আর কোনোভাবেই টেবিলের তিন নম্বরে ওঠা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, এবারের নিয়মে ১২টি গ্রুপের মধ্যে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্ব শেষে যদি একই গ্রুপের দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়, তবে টেবিলের অবস্থান নির্ধারণে নিচের শর্তগুলো ক্রমানুসারে প্রয়োগ করা হবে:
১. হেড-টু-হেড বা মুখোমুখি লড়াই: সমান পয়েন্টধারী দলগুলো নিজেদের মধ্যে ম্যাচে কে জিতেছিল, তা আগে দেখা হবে।
২. গোল ব্যবধান: সব ম্যাচ মিলিয়ে কোন দল কত গোল ব্যবধানে এগিয়ে আছে।
৩. নিজেদের করা গোল: পুরো গ্রুপ পর্বে কোন দল প্রতিপক্ষের জালে সবচেয়ে বেশি গোল দিয়েছে।
৪. ফেয়ার প্লে পয়েন্ট বা দলীয় শৃঙ্খলা: কোন দল টুর্নামেন্টে কত কম লাল ও হলুদ কার্ড খেয়েছে, তার হিসাব।
৫. ফিফা র‍্যাংকিং: উপরের সব কিছুতেও টাই না ভাঙলে, দলগুলোর সর্বশেষ ফিফা র‍্যাংকিং বিবেচনা করা হবে।

হাইতি
নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল হাইতি। পরের ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে বিধ্বস্ত হয় ৩-০ ব্যবধানে। প্রথম দুই ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে ব্রাজিল ও মরক্কো আগেই সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছে। ফলে, শেষ ম্যাচে হাইতি যদি মরক্কোকে হারায়ও এরপর তারা স্কটল্যান্ডের সমান ৩ পয়েন্ট পাবে; কিন্তু মুখোমুখি লড়াইয়ে (হেড-টু-হেড) স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ায় কোনোভাবেই টেবিলের তিনে ওঠার সুযোগ নেই ক্যারিবীয় দেশটির।

তুরস্ক
এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম বড় হতাশার নাম তুরস্ক। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ এবং প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে প্রথম দুই ম্যাচেই তাদের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। শেষ ম্যাচে তারা যদি স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েও দেয়, তবুও প্রথম দুই ম্যাচে হেরে আসায় হেড-টু-হেড নিয়মের মারপ্যাঁচে অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের পেছনেই থাকতে হবে তুর্কিদের।

তিউনিসিয়া
টানা দুটি বড় হারে পুড়েছে তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ এবং পরের ম্যাচে জাপানের কাছে ৪-০ গোলে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় তারা। শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে যদি তারা বিশাল ব্যবধানে হারায় এবং অন্য ম্যাচে জাপান যদি সুইডেনকে হারিয়েও দেয়—তবুও মুখোমুখি লড়াইয়ে সুইডেনের কাছে পিছিয়ে থাকার কারণে তিউনিসিয়ার পক্ষে আর টেবিলের তিন নম্বরে যাওয়া সম্ভব নয়।

জর্ডান
উদ্বোধনী ম্যাচে অস্ট্রিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হার দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল জর্ডানের। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা আলজেরিয়ার কাছে হারে ২-১ ব্যবধানে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে যদি তারা ৩ পয়েন্ট পায় এবং টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকা দলের সমান পয়েন্টও করে, তবুও হেড-টু-হেড টাইব্রেকারের গ্যাঁড়াকলে পড়ে ‘জে’ গ্রুপের তলানিতেই থাকতে হচ্ছে এশিয়ান দলটিকে।

পানামা
প্রথম দুই ম্যাচে লড়াকু ফুটবল খেলেও ভাগ্য সহায় হয়নি পানামার; ঘানা এবং ক্রোয়েশিয়া—উভয় দলের কাছেই হেরেছে ১-০ ব্যবধানে। শেষ ম্যাচে তারা যদি ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট তুলে অলৌকিক কিছু করেও ফেলে, তবুও মুখোমুখি লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার কারণে বর্তমানে টেবিলের তিনে থাকা ক্রোয়েশিয়াকে টপকাতে পারবে না তারা।